সংলাপের পথে নাটকীয় মোড়

0003
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংকট নিরসনে চিঠি আর ফোনালাপের মধ্য দিয়ে নাটকীয় গতি পেয়েছে রাজনীতির চাকা।
দশম সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের দিনগুলোয় রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ কে চালাবে- তা নিয়ে ক্ষমাতাসীন ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব নিয়ে যখন সারা দেশে তুমুল আলোচনা, তখনই শুরু হয়েছে বরফ গলা।
বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, সংকট নিরসনে দ্রুত আলোচনা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ক্ষমতাসীনদের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওই চিঠি সোমবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছে দেন দলের তিন নেতা। একই সময়ে গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান ফখরুল।
আর সংলাপের এই উদ্যোগ নাটকীয় মাত্রা পায় সৈয়দ আশরাফের একটি ফোন কলে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক ও সাংসদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী চিঠি নিয়ে আশরাফের বাড়িতে পৌঁছান বেলা সোয়া ১১টার পর। আর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।
স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সরকারের সমালোচনার মধ্য দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন ফখরুল।
ফখরুল অভিযোগ করেন, বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচনকালীন সরকারের একটি প্রস্তাব দেয়ার পরপরই পুলিশের এ ধরনের আচরনে প্রমাণ হয়েছে যে সরকার সমঝোতা চায় না।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে এসে পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিগত সহকারী ফখরুলের দিকে এগিয়ে দেন ফোন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য থামিয়ে ফোন কানে দিয়ে আন্তরিক ভঙ্গিতে বিএনপির মুখপাত্র বলে ওঠেন, “স্লামালিকুম ভাই।”
টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে চোখ রাখা দেশের মানুষের সামনেই মিনিটখানেক চলে এই নাটকীয় কথোপকথন।
এ পাশ থেকে ফখরুলকে বলতে শোনা যায়- “জ্বি ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন? জ্বি, জ্বি। আচ্ছা আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
“আমরা আশা করি, আপনারা এটাকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনাটা শুরু করবেন। আমরা এগিয়ে এসেছি। আপনারাও এগিয়ে আসবেন।

“থ্যাংক ইউ।”
বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অনেকেই ততোক্ষণে বুঝে গেছেন, ফোনের ওপাশে এতোক্ষণ কথা বলছিলেন, আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
ফোন রেখে মির্জা ফখরুল হাসিমুখে হাত নেড়ে ইশারা দেন- ‘হয়ে গেছে’। তার সংবাদ সম্মেলনের সুরও বদলে যায়।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফ সাহেবের এখনই কথা হয়েছে। টেলিফোনের কথাবার্তার সব কিছুই আপনারা শুনেছেন। তিনি চিঠিটি কিছুক্ষণ আগে গ্রহণ করেছেন। উনি চিঠির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
“সৈয়দ আশরাফ আমাকে জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিনাজপুরে ট্র্যাভেল করছেন। এই চিঠিটি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন।
ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে তার চিঠির ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে সরকার ‘ইতিবাচক’ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে গুলশানের এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই মিন্টো রোডে সৈয়দ আশরাফের বাসায় বসে ফখরুলের চিঠি পড়ে শোনান বরকত উল্লাহ বুলু।
এদিকে আওয়ামী লীগও বুধবার সকাল ১১টায় ধানমন্ডিতে দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনেই বিএনপির আহ্বানের জবাব আসতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

শেয়ার