২৪ অক্টোবরের পরও মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে

Cabinet
সমাজের কথা ডেস্ক॥ নির্বাচনের দিন গণনা শুরুর পরও মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিন গণনা শুরুর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তা সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হবে।
নির্বাচনের সময় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকলেও নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে না বলে আগেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিন গণনা শুরুর পর মন্ত্রিসভার বৈঠক চলবে কি না-জানতে চাইলে মোশাররফ বলেন,“এটি বিদায়ী বৈঠক ছিল না। আরো বৈঠক হবে। এ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি।”
সরকার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে ২৪ অক্টোবরের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকের যুক্তি কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী।
“সরকারের ভবিষ্যত কর্মপন্থা বা পরিকল্পনা যদি অনুধাবন করতে হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া সর্বশেষ ভাষণ অনুধাবন করতে হবে।”
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বিএনপির আপত্তির মধ্যে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলেও নির্বাচনকালীন এই সরকারকেই ‘অন্তর্র্বতীকালীন সরকার’ বলে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
কখন থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ কাজ শুরু করবে, সেই বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।”
বর্তমান সরকারের সময়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় সোমবারের সভায়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চার বছর নয় মাস সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বর্তমান সরকার ( ৬ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত) এবং বিগত সরকারের একই সময়ে (১০ অক্টোবর ২০০১ থেকে ৩ জুলাই ২০০৬) মন্ত্রিসভা বৈঠক সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রমের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন।

“সরকারেরএ সময়ে ১ হাজার ৪৪২টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়ন হয়েছে ১ হাজার ৩৩৯টি বা বাস্তবায়নের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।”

“একই সময়ে বিগত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ৭০৭টি এবং বাস্তবায়ন করে ৫৭০টি বা বাস্তবায়নের হার ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ।”

বর্তমান সরকারের সময়ে ৪৩টি নীতি বা কৌশল অনুমোদন, ১১৪টি চুক্তি অনুমোদন এবং ২৪০টি আইন সংসদে পাস করে।

বিগত সরকার এ সময়ে ২৩টি নীতি বা কৌশল অনুমোদন, ৬২টি চুক্তি অনুমোদন এবং ১৬০টি আইন সংসদে পাস করে।

শেয়ার