শীতের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছে সবজি চাষীরা

Jessore vegetable
ইন্দ্রজিৎ রায়:
সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত যশোর অঞ্চলের কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরোদমে চলছে মাঠ প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপন ও পরিচর্যার কাজ। কৃষকদের যেন দম নেয়ার সময় নেই। শীতকালীন সবজির মধ্যে এ অঞ্চলের কৃষকরা কপি, মুলা ও বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন। একই সাথে মাঠে গ্রষ্মীকালীন সবজি শিমের ব্যাপক ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে শিম। কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন সবজি ঘরে তোলার পাশাপাশি শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, যশোর জেলায় প্রতিবছর ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষাবাদ হয়ে থাকে। এবছ শীত মৌসুমে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, পেঁপে, কলা বেগুন, বাঁধাকপি, কুমড়া, পালংশাক ও লালশাক টমেটো উৎপাদন হয়। প্রতিবছর জেলায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন সবজি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে গ্রীস্মকালে সবজি ৩ লাখ ৪৭ হাজার টন ও শীতকালে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৯ হাজার টন সবজি।
যশোরের সবজি পল্লী নামে পরিচিত সদর উপজেলার বারীনগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। কৃষকরা চাষের জমি তৈরিতে ব্যস্ত। আবার অনেকেই ইতোমধ্যে সবজি বীজ বপন করেছে। চলছে চারা পরিচর্যার কাজও। সব মিলিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত। যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, শীতকালীন সবজি চাষ শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগেই। যারা পিছিয়ে পড়েছেন তারা এখন চাষে তোড়জোড় শুরু করেছে।
পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তার চার বিঘা সবজি চাষের জমি রয়েছে। এরমধ্যে ১২ কাঠা জমিতে তিনি শিমের চাষ করেছেন। বাকী জমিতে ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজি পাতা কপি, মুলা ও বেগুন চারা রোপন করেছেন। এখন শ্রমিক নিয়ে নিজে সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।
তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে কপি চাষে ৬ হাজার চারা বাবদ ৩ হাজার টাকা, রোপন ও পরিচর্যা বাবদ ৪ হাজার টাকা, সার (টিএসপি, ইউরিয়া, দস্তা, সালফার) বাবদ ৫ হাজার টাকা, সেচ বাবদ ১ হাজার টাকা ও কীটনাশক বাবদ কমপক্ষে ২ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। সর্বসাকূল্যে এক বিঘা জমিতে কপির চাষে কৃষকদের ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তবে কপির চাষাবাদ ভালো হলে প্রতি পিস কপি ৫ টাকায় বিক্রি হলে এক বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা আয় হবে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে লোকসানও গুনতে হবে কৃষকদের। একই হিসেবে কৃষকদের বেগুন, মুলা চাষে খরচ করতে হয়।
একই এলাকার কৃষক আদিল হোসেন জানান, সবজি চাষে খরচ বাড়ছে ক্রমাগত। কীটনাশক, সার, শ্রমিক, সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা চাষবাদে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকেই স্থানীয় সার, কীটনাশক বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
বারীনগর এলাকার কৃষক রিপন হোসেন বলেন, হৈবৎপুর ও চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ সবজি চাষের সাথে জড়িত। এ অঞ্চলের মানুষ তেমন কোন সহযোগিতায় পায়না। সবজি চাষীদের সহজ শর্তে ঋণ দিলে কৃষকরা আরও উদ্বুদ্ধ হবে।
শুধু সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ও হৈবৎপুর ইউনিয়ন নয় যশোর-মাগুরা সড়কের পাশের লেবুতলা হাশিমপুর, লেবুতলা ইউনিয়ন, যশোর-নড়াইল সড়কের দুধারের বিস্তীর্ণ মাঠে চাষাবাদ হচ্ছে সবজি। এছাড়াও বাঘারপাড়া ও চৌগাছা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য হারে সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। পুরো জেলায় সবজি নিয়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক হেমায়েত হোসেন বলেন, জেলার অর্থনীতি সবজি নির্ভর হিসেবেই গড়ে উঠছে। প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি উৎপাদন। সবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কৃষকদের দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে বিভিন্ন প্রকার সবজির আগাম চাষ করে লাভবান হতে পারে সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কৃষকরা মৌসুমী সবজির পাশাপাশি আগাম সবজি চাষ করেও লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার