মনিরামপুরে আউশের বাম্পার ফলন হলেও অসময়ে ভারী বর্ষণে ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের নাভিশ্বাস

OLYMPUS DIGITAL CAMERA
মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর ॥ যশোরের মণিরামপুরে আউশের বাম্পার ফলন হলেও অসময়ে ভারী বর্ষণে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে। বাধ্য হয়ে ছোট ডিঙ্গী নৌকা নিয়ে পাকা ধানের ডুবন্ত শীষ কাটতে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫’শ ১৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু আবাদের লক্ষ্যমাত্র আরো বেশী ধরা হলেও চলতি মৌসুমে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর কারন বিগত বছরগুলোতে আউশ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকদের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে। ফলে কৃষকরা আমন ধান আবাদে অধিক মাত্রায় ঝুকে পড়েছে বলে জানাযায়। এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মত কৃষি উপকরণ পাওয়ায় চলতি মৌসুমে আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলা ব্যাপী আউশের যে আবাদ হয়েছে তার অর্ধেক আবাদ হয়েছে উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে প্রায় ২’শ হেক্টর জমিতে এবার আউশের আবাদ হয়েছে। এরপর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়ন, সেখানে প্রায় ১’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ডুমোরবিল, সমসকাটি বিল ও বিল বোকড়সহ আরো কয়েকটি বিলে আউশের বাম্পার ফলন হলেও অসময়ে ভারি বর্ষনে ধান ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের তা ঘরে তুলতে নাভিশ্বাস উঠছে। জমি সম্পূর্নরুপে তলিয়ে যাওয়ায় ছোট ডিঙ্গী নৌকা, কলার ভেলাসহ অন্যান্য উপায়ে ধান কাটছে কৃষকরা। উপজেলার হরিদাসকাটি গ্রামের ধান চাষী অসীম মন্ডল, জীবন মল্লিক, অশোক মল্লিকসহ অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানান, বিলে পানি জমায় বছরে দুটি ফসল আউশ ও বোরো চাষই তাদের প্রাধান অবলম্বন। কিন্তু এবার অসময় ভারী বর্ষনে ফসল ঘরে তুলতে হিমসিম খেতে হচ্ছে বলেও তারা জানান। জানতে চাইলে হরিদাসকাটি ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবেন্দ্রনাথ মল্লিক বলেন, সময় মত কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সারের সুষম ব্যবহার ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে।

শেয়ার