প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, গত কয়েক মাস ধরে আমাদের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে স্থবিরতার সূচনা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটেছে। জাতি একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা খুঁজে পেয়েছে। ওদিকে,শনিবার প্রধান বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবকে সংবিধান পরিপন্থী আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখান করেছে এবং পাল্টা প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে। রাজনীতির নামে সংঘাত ও ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব কখনই জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না; এ কথা সংশ্লিষ্ট সকলের মনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর এ ভাষণে যে ঔদার্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। তিনি নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের জন্য বিরোধীদলীয় সাংসদদের নাম পাঠাতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন; এর চেয়ে ইতিবাচক প্রস্তাব আর কি হতে পারে?
দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাঁচাতে সরকার ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে যত শীঘ্র সম্ভব আলোচনায় বসা উচিত। বিএনপি যদি তাদের রাজনৈতিক সহযোগী জামায়াতের সঙ্গে আবার একাত্মতা ঘোষণা করে, তবে তা একই সঙ্গে বিএনপি ও দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হবে। জামায়াত এদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশকে এতটুকু সমর্থন করে না। তারা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা চায় দেশব্যাপী তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করতে। তাদের প্রধান লক্ষ্যÑদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করা ও বিচারের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইতোপূর্বে জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধে। এ কারণে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির ভাবমূর্তি অনেকখানি বিনষ্ট হয়েছে। প্রধান বিরোধী দলের উচিত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শান্তি ও ঐক্যের পথ দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। জনগণের ওপর আস্থা রাখুন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করুন। আপনারা কী চান, তা সংসদে এসে বলুন।’ বস্তুত সংসদীয় গণতন্ত্র সর্বদাই সংসদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এখানে সরকার ও বিরোধী দলের সমান ভূমিকা রয়েছে। সরকারের একার পক্ষে সংসদকে প্রাণবন্ত করা সম্ভব নয়। জনগণের প্রত্যাশা, বিরোধীদলীয় সাংসদরা জাতীয় সংসদে গিয়ে সরকারী কর্মকাণ্ডের আলোচনায় অংশ নিবেন। এখানে প্রত্যেক সাংসদের অবাধে কথা বলার অধিকার আছে। দুর্ভাগ্যবশত, গত কয়েক বছর ধরে সংসদের কার্যকর অধিবেশনে বিরোধী দল খুব কমই উপস্থিত হচ্ছে।
জাতির ক্রান্তিলগ্নে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনে উদ্যোগী হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। সরকারের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতির উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক ভাষণ প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন।

শেয়ার