শাকিবের প্রতিদ্বন্দ্বী শাকিবই!

sakib
সমাজের কথা ডেস্ক॥
এবারের ঈদুল আযহায় মুক্তি পেয়েছে চারটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে তিনটি চলচ্চিত্রেই আছেন শাকিব খান। বাজেট, নির্মাণ আর অতীত সাফল্য মিলিয়ে দর্শক প্রত্যাশাও বেশি শাকিবের ছবিগুলো নিয়েই।

ঈদের চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার প্রথম পাঁচদিন শেষে দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শাকিব অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেই। ভালো ব্যবসা করা চলচ্চিত্রের প্রথম তিনটির সবকটিই শাকিব অভিনীত। চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযোজক- পরিবেশক সূত্র থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

শাকিব অভিনীত চলচ্চিত্র তিনটি হচ্ছে ‘ফুল এন্ড ফাইনাল’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ এবং ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান ’। তিনটি চলচ্চিত্রেই শাকিবের বিপরীতে আছেন হালের তিন নায়িকা।

আলোচিত ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ চলচ্চিত্রের নায়িকা ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ জয়া। আর শাকিব-অপু’র জনপ্রিয় জুটি ফিরছে রকিবুল ইসলাম রকিবের ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’ চলচ্চিত্রে। এ ছবিতে শাকিবের আরেক নায়িকা নিপুণ। মালেক আফসারীর ‘ফুল এন্ড ফাইনাল’ চলচ্চিত্রে শাকিবের বিপরীতে আছেন ববি।

সারাদেশে বর্তমানে চালু আছে সাড়ে পাঁচ শ’র মত প্রেক্ষাগৃহ। এর মধ্যে দুই শ’র মত সিনেমা হলে চলছে শাকিব অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের ব্যাবসায়িক লাভের সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ প্রকাশ করেন না। বাজেট, আয় মিলিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাই ধারণা দেন চলচ্চিত্র হিট, সুপারহিট নাকি ফ্লপ?

মজার ব্যপার, শাকিবের তিন ছবির পরিচালকই দাবি করছেন তাদের ছবিটিই সবচেয়ে বেশি হিট করেছে। ব্যবসায়িক লাভে আছে শীর্ষে।

ফুল এন্ড ফাইনাল
এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে ৮৮টি প্রেক্ষাগৃহে। বাংলাদেশে ইতিহাসে আর কোন চলচ্চিত্র এত বেশি সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি। পাশাপাশি এবারের ঈদের মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজেটের ছবিও এটি। অ্যাকশন ঘরানার এ ছবিটি মূলত ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের। শাকিব, ববি ছাড়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন তানভীর তনু। নায়িকা ববিকে বর্তমান সময়ে এফডিসি পাড়ার সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল নায়িকা হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। মুক্তি পাওয়া খোঁজ দ্যা সার্চ’, ‘দেহরক্ষী’ এবং শুটিং চলতি আরো আধডজনের মত চলচ্চিত্র নিয়ে সম্ভাবনাময়ী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন ইতিমধ্যে।

ফুল এন্ড ফাইনাল চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে হার্টবিট প্রডাকশন। একই প্রডাকশন থেকে এর আগে মুক্তি পেয়েছে ব্যবসা সফল সিনেমা ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘মনের জ্বালা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ এবং ‘খোদার পরে মা’। এই সবগুলোই ছিল হিট।

‘ফুল এন্ড ফাইনাল’ নিয়ে নির্মাতা মালেক আফসারী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ৮৮টি হলে মুক্তি পেয়েছে আমার ছবিটি। এ থেকেই সহজেই বোঝা যায় সবচেয়ে বেশি আয় করছে কোনটি। মুক্তির আগেই লগ্নি করা অর্থ উঠে আসে। এখন বলব ‘ফুল এন্ড ফাইনাল’ সুপারহিট সিনেমা।

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী
ফ্রেন্ডস এন্ড মুভিজের ব্যনারে এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন কণ্ঠশিল্পী চন্দন সিনহা। মহরত অনুষ্ঠানের পর থেকেই আলোচনায় চলচ্চিত্রটি। শাকিব খানের বিপরীতে জয়ার পর্দার রসায়ন নিয়ে কৌতুহল ছিল শুরু থেকেই। আকর্ষণের উপলক্ষ ছিল এই ছবির আরেক নায়ক ছোটপর্দা থেকে আসা আরেফিন শুভ’ও। দুই বছর চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’-ই শুভ’র মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি। ইতিমধ্যে সিনেমাটির ‘নিঃস্ব হয়ে যাবো’ গানটি শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। সবমিলিয়ে আলোচনার চূড়ায় থেকেই মুক্তি পায় ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’।

পরিচালক সাফিউদ্দিন সাফি বলেন, ‘আমার নিজের ছবি নিয়ে কিছু বলার নেই। টিকেট নিয়ে হাহাকার, দর্শকদের বিপুল সাড়াই প্রমাণ করে এবারের ঈদের নাম্বার ওয়ান ছবি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’।

বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্সসহ মোট ৩১টি হলে চলছে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’।

প্রেমিক নাম্বার ওয়ান
রকিবুল ইসলাম রকিব পরিচালিত এই সিনেমাটির বড় দিক অনেকদিন পর শাকিব- অপু জুটির নতুন সিনেমা। আরেক নায়িকা নিপুণও আছেন চলচ্চিত্রটিতে। সারাদেশে মোট ৬৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ‘প্রেমিক নাম্বার ওয়ান’র সাফল্য বিষয়ে পরিচালক রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, এবারের ঈদের সুপার ডুপার হিট ছবি প্রেমিক নাম্বার ওয়ান। বাজেট, মুখের আওয়াজ এইসব বড় কথা নয়। দর্শক কেমন সাড়া দিচ্ছে সেটাই বড়। প্রেমিক নাম্বার ওয়ান-ই এবারের ওয়ান।

কি বলে প্রযোজক পরিবেশক সমিতি?
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, এখনো তো এক সপ্তাহ যায়নি। সপ্তাহ শেষে বোঝা যাবে আসলে কোন ছবিটা কতটা হিট হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে প্রথমদিকে আছে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ এবং ‘ফুল এন্ড ফাইনাল’। ‘কি প্রেম দেখাইলাও’ ভালো চলছে। তবে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি।

মিয়া আলাউদ্দিন আরো বলেন, ‘শাকিবের তিনটি ছবিই বেশ ভালো অবস্থানে আছে এটা শুধু শাকিব না, আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যই ভালো দিক।

তিন ছবি মিলিয়ে পৌনে দু’শর বেশি প্রেক্ষাগৃহে চলছে শাকিব খানের সিনেমা। সারাদেশে চালু থাকা সাড়ে পাঁচশ সিনেমা হলের অধিকাংশ হলেই চলছে শাকিব খানের নতুন ও পুরনো সিনেমা।

সবমিলিয়ে এক চলচ্চিত্রের সাথে আরেক চলচ্চিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন চলছে, তেমনি লড়াই চলছে শাকিবের নিজের মাঝেই।

শেয়ার