ঘরোয়া লিগ না হওয়ায় খেলোয়াড়রা হতাশ

home luge
এম এ রাজা:
যশোর জেলার সব ইভেন্টের খেলোয়াড়রা এখন হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাদের সারা বছরের অনুশীলন ও পরিশ্রমের অবসান ঘটে ঘরোয়া লীগের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু গত মৌসুমে হয়নি কোন ঘরোয়া খেলাধুলা। চলতি মৌসুমেও কোন খেলা না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সব সেক্টরের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। জেলা ক্রীড়া সংগঠকদের দ্বিধা বিভক্তির কারণে ক্রীড়াঙ্গনের এই অবস্থা। আর এই দ্বিধা বিভক্তির অন্যতম কারণ সংস্থার নির্বাচন। নির্বাচনে বিজয়ী নব নির্বাচিত ক্রীড়া সংগঠকরা ক্ষমতা পাননি। ক্ষমতা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জেলার সব ক্রীড়া সংগঠকদের নজর এখন সেদিকে। সেখান থেকে রায় না পাওয়া পর্যন্ত কেউ কোন ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন না।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে জেলার ক্রীড়া সংগঠকদের মুখ থেকে বেশ জোরে শোরেই উচ্চারিত হয়ে আসছে খেলার প্রধান অন্তরায় মাঠ সঙ্কট। বর্তমানে মাঠ রয়েছে নেই খেলাধুলা। খেলাধুলা না থাকায় অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছেন জেলার বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়রা। জেলায় যেসব খেলোয়াড়রা রয়েছেন ঘরোয়া লীগ না হওয়ায় তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। অনেক খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে খেলোয়াড়ী মনোভাব ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে। আশিকুর রহমান আশিক নামের এক ক্রিকেটার বলেন, গত দুই মৌসুম ধরে কোন ক্রিকেট লিগ হচ্ছে না। খেলা না হওয়ায় অনেকেই অনুশীলন ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিচ্ছে। যা যশোর ক্রিকেটের জন্য সুসংবাদ নয় জানালেন বলে জানান এই ক্রিকেটার। জেলায় বেশ কয়েকটি ক্রিকেট কোচিং সেন্টার থাকার ফলে ক্রিকেটের অনুশীলন বেশ জোরালভাবেই অব্যাহত আছে। আছিয়া ক্রিকেট ইন্সটিটিউটের প্রধান কোচ এহসানুল হক সুমন বলেন, গত ২ মৌসুম ধরে ঘরোয়া কোন খেলাধূলা হচ্ছে না। এই কারণে কোচিং সেন্টার থেকে ক্রিকেটারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন খেলাধুলা পরিচালনা করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নিষেধ থাকায় ঘরোয়া কোন খেলা ধুলা আয়োজন করা যাচ্ছে না।
যশোরে এক সময় হ্যান্ডবল ছিল জনপ্রিয় খেলা। অথচ তার কোন কার্যক্রম এখন আর নেই। এরকম আরও অনেক জনপ্রিয় খেলার সাথে খেলোয়াড়দের কোন অনুশীলন নেই। এর ফলে খেলোয়াড়রদের মান গেছে তলানীর দিকে। এখন থেকে বিষয়গুলো ক্রীড়া সংগঠকরা না ভাবলে অচিরেই সব সেক্টরগুলোতে খেলোয়াড় সঙ্কট দেখা দেবে বলে জানান জেলার কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড়রা।

শেয়ার