কালীগঞ্জে হাত বাড়ালেই অর্ধশত স্পটে মিলছে মাদক : মাসোহারায় তুষ্ট পুলিশ

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য। স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নির্বিঘেœ বিক্রি হচ্ছে। আর নেশায় আসক্ত যুবকরা ঝিনাইদহ, মাগুরা, কোটচাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসছে নেশা করতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাবেনা চলছে মাদকের। ফেন্সিডিল আসক্তরা ফেন্সিডিল সেবন করে শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে আড্ডা মারছে সারাক্ষণ। আর সন্ধ্যার পর বাংলামদে ছেয়ে যায় কালীগঞ্জ। অথচ এসব মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারে পুলিশের কোন ভূমিকা নেই। উদ্ধার হয়না কোন মাদকদ্রব্য। শুধু আইন শৃংখলা সভায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে ক্ষান্ত প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা। শহরের অর্ধশত স্পটে ফেন্সিডিল, বাংলা মদ ও ইয়াবার ব্যবসা চলছে জমজমাটভাবে। থানা পুলিশ কখনও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন না অজ্ঞাত কারণে। যদি কখনো ফেন্সিডিল উদ্ধার হয় তা থানা পর্যন্ত পৌছাতে পৌছাতে শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ফেন্সিডিল উদ্ধার হবার পর পুলিশ তা বিক্রি করে দেয়। স্থানীয় থানা পুলিশকে মাসিক চুক্তিতে তুষ্ট করে চলছে এসব ব্যবসা। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা হিসেবে অনেক জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে। এসব জনপ্রতিনিধির শেল্টারে থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ মাদক ব্যবসা করছে।
কালীগঞ্জের আড়পাড়া মাঠপাড়ায় রয়েছে প্রায় ১০/১৫ ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্থানীয় থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিআইডি নিয়মিত টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়া মেইন বাসটার্মিনাল সংলগ্ন মাছের আড়তে পাশে লেদা ও মনো নামের দুই ভাই নিয়মিত বাংলা মদ বিক্রি করে। ঈদের আগের দিন ঝিনাইদহ র‌্যাব লেদা ও মনোর ১০০ লিটার বাংলা মদ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন ধরে এরা বাংলা মদ বিক্রি করলেও রয়ে গেছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এছাড়া খয়েরতলা, বাকুলিয়া, কলেজপাড়া, বলিদাপাড়া, নরেন্দ্রপুর, আড়পাড়া ব্রিক্সফিল্ড, চাপালী, নিয়ামতপুর, কাশিপুর, ঈশ্বরবা, ফয়লা, রেলস্টেশনপাড়াসহ বেশ কয়েকটি স্পটে সারাক্ষণ ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে।
চাপালী গ্রামের ফেন্সিডিল স¤্রাট টুকু জেল থেকে বেরিয়ে আবারো রমরমাভাবে ফেন্সিডিলের ব্যবসা করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় থানা পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নিয়ে অভিযান না চালিয়ে ঘুমিয়ে আছে। যার কারণে কোনভাবেই থামছে না মাদক ব্যবসা।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, মাদক বিক্রি বন্ধে আমরা সবাই চেষ্টা চালাচ্ছি। তাছাড়া ঝিনাইদহ থেকে কালীগঞ্জে মাদকের ব্যবসা বেশি চলে। যারা মাদক বিক্রি করছে তাদের ধরে আনা হবে। ফেন্সিডিল উদ্ধার হবার পর থানা পুলিশ বিক্রি করে দেয় এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

শেয়ার