ঈদ পূজায় খাওয়া দাওয়া, অতঃপর….

celibrety
সমাজের কথা ডেস্ক॥
শেষ হয়ে গেল ঈদুল আযহা। এর আগে যবনিকা ঘটেছে শারদীয় দুর্গা পূজারও। ঈদ পূজার মতো উৎসবের বড় অংশ খাওয়া দাওয়া। অন্য সবার মত উৎসব আনন্দে শামিল তারকারাও। খুব আয়েশ করে তারাও যোগ দেন জম্পেশ ‘ভোজন’ পর্বে।

তবে এসব খাবারের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারই বেশি থাকে। ঈদ পূজার উৎসবে নিজের সৌন্দর্যকে ঠিক রাখতে এই ধরণের খাবার এড়িয়ে চললেও কিছুটা তো খেতে হয়েছেই। এই অতিরিক্ত খাবারের জন্য ঈদ আর পুজার পরে এখন তাদের অতিরিক্ত কি করতে হচ্ছে?

কী করছেন দেশি বিদেশি তারকারা? বাংলানিউজের সাথে কয়েকজন তারকা শেয়ার করেছেন ‘ঈদ ভোজন’ নিয়ে। আর ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে জানা গেল টালিউড তারকাদের ভাবনাও।

প্রথমেই জানা যাক বাংলাদেশি তারকাদের কথা।

যে পশুটি কিছুক্ষণ আগেও জীবিত ছিল সেই পশুকে জবাই করে তার মাংস খাওয়ার পক্ষে নন অভিনেত্রী মম। তারপরেও উৎসবের আয়োজনে কিছুটা খেতে হয় বলেই খেয়েছেন তিনি। বললেন, ‘মাংস খেয়ে খুব বেশি আরাম বোধ করি না আমি। কোরবানি ঈদে মাংসটাই যেহেতু প্রধান তাই খেতে হয়। তবে মাংসের চেয়ে অন্যান্য খাবার আমি বেশি খেয়েছি। তাই শরীর নিয়েও খুব বেশি দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি।’

তবে দুশ্চিন্তা খানিকটা আছে অভিনেতা হিল্লোলের। ‘ঈদের পরের দিনই ভেবেছি আজ মাংস খেয়ে আর খাবনা। কিন্তু হচ্ছে না।’ বললেন অভিনেতা হিল্লোল।

আরও বললেন, ‘ এখনো গরু খাসির মাংস খাওয়ার মধ্যে আমার ঈদ যাচ্ছে। কিন্তু বুঝতে পারছি খাওয়ার পরে ওজন বাড়লে কমানোটা অনেক কষ্টের হবে। তাই চিন্তা করছি আর দুই থেকে তিন দিন পরে খাওয়া কমিয়ে দেব।’

উৎসব আয়োজনে অনেক কিছুর মধ্যে মাংসই ছিল প্রধান খাবার জানালেন অভিনেত্রী স্বাগতা। তিনি বলেন, ‘ এবারের ঈদে অনেক খেয়েছি। এর মধ্যে ছিল মাংসের তৈরি করা বিভিন্ন খাবার। তবে এখন মনে হচ্ছে এতটু বেশি খেয়ে ফেলেছি। তাই চিন্তা করছি কয়দিন খাওয়া দাওয়া একটু কমিয়ে দেব। সব কিছুর উপরে আমার ফিটনেসের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

ঈদে মাংসের টিকা, কাবাব, তরকারি খেয়েছেন গায়িকা কোণাল। তার মতে, ‘যা খেয়েছি সব মাংস কেন্দ্রিক। স্বাস্থ্য নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই আমি। তবে পানি এবং তেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলে মাংসের ব্যালান্স করার চেষ্টা করছি।’

এবার দেখা যাক কী করছেন টালিউড তারকারা:

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডায়েটিং এ কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। এ নিয়ে তার ভীষণ আফসোস। বললেন, ‘পূজায় ভোগ থেকে শুরু করে লুচি পর্যন্ত সবকিছু ছিল আমার খাবারের তালিকায়। এছাড়াও ষষ্ঠী ও নবমীর দিন আমার পছন্দের মিষ্টিও খেয়েছি অনেক। এজন্য আগের জায়গায় নিজেকে ফিরিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। তাই এখন প্রতিদিন যোগ ব্যায়াম এবং জিম করছি।’

অভিনেত্রী শ্রাবন্তী বলেন, ‘ষষ্ঠী এবং নবমীর দিন পর্যন্ত নিরামিষ খাবার খেয়েছি। কিন্তু নবমীর রাতে ভেড়ার মাংসের বিরিয়ানি খেয়েছি। এছাড়াও টুকিটাকি কিছু বাড়তি খাবার তো খাওয়া হয়েছেই। তাই পূজার পরে আমার ডায়েটিংও বেড়েছে।

মার সাথে থেকে দুর্গা পূজায় অনেক তেলে ভাজা লুচি এবং আলুর দম খাওয়া হয়েছে নায়ক দেবের। ‘ মায়ের অনুরোধে পূজায় বিরিয়ানি এবং তৈলাক্ত খাবার খেয়েছি বলেই এখন ব্যায়ামে আমি অতিরিক্ত সময় খরচ করছি। আর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকছে লবন ছাড়া সিদ্ধ মাছ, মুরগি, আপেল আর সবুজ চা।’

টালিউড অভিনেত্রী রাইমা সেন সবসময় তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলেন। পূজাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি জানান, ‘পূজার জন্য আমার খাবারের রুটিন আলাদা থাকলেও আমি ভাত রুটি, তেলে ভাজা খাবার, মিষ্টি, মাংস এগুলো থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করি। তবুও পূজায় বাড়তি অনেক কিছুই খেয়েছি। এই বাড়তি খাবারগুলো যেন আমার ত্বকে ও শরীরে কোনভাবে প্রভাব না ফেলে তাই পূজার পরে কঠিন ভাবে যোগব্যায়াম ও জিম করছি। এবং হাই- প্রোটিন ডায়েট শুরু করে দিয়েছি।’

শেয়ার