জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করেছি : প্রধানমন্ত্রী

sek hasina
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে বিশ্বাস নিয়ে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে তা রক্ষা করেছি। ২ তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে কাটাছেঁড়ায় ক্ষতবিক্ষত সংবিধানকে আমরা সংশোধন করেছি। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছি।
শনিবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সিটি কর্পোরেশন মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা মেয়রদের মতবিনিময় সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একইসাথে দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় তড়িঘড়ি নয়, যথেষ্ট সময় নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সেবা করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে তাহলে দেশের একজন দরিদ্র মানুষও থাকবে না। কাউকে কুঁড়েঘরে থাকতে হবে না। কী পেলাম আর কী পেলাম না তা ভাবলে চলবে না। যারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের জন্য আমরা কি করেতে পেরেছি সেই মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নতি হলে সবার উন্নতি হবে।
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে জেলাভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হবে। সরকারি হোক, বেসরকারি হোক প্রত্যেকটি জেলাতেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইনশাল্লাহ আমরা আবার সরকার গঠন করে জনগণের সেবা করতে পারব।”
গণভবনে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১ হাজার ১৬৬ জন প্রতিনিধিদের কাছে আগামী নির্বাচনের ইশতেহারের বিষয়ে মতামতও চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপিকে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানানোর একদিন পরই এই সভায় বসলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে আমরা কাজ করছি। কিন্তু, তা আরো সহজ করতে হবে। “নিদেনপক্ষে প্রত্যেকের যেন একটি করে টিনের ঘর হয়- সে ব্যবস্থা আমরা করব।”
নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি স্থান পাবে বলে জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আইনটা পড়ে দেখা দরকার। ম্যানুয়েল পড়ে নিয়ে কী কাজ করা দরকার, তা দেখবেন।”
আগামীতে জেলাভিত্তিক বাজেট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রতিটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের দিকে খেয়াল রেখে জেলাভিত্তিক বাজেট তৈরি করে বরাদ্দ দেয়া হবে।
“কেন্দ্র থেকে শুধু বাজেট অ্যালোকেশন এবং মনিটরিং করা হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আগামীতে ক্ষমতায় আসলে আমরা দেখব- কোন কোন জেলার কী কী উন্নয়ন দরকার। প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়নের জন্য কী কী ঘাটতি আছে।”
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়িত্ব দেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আগামীতে ক্ষমতায় এলে ‘প্রতিটি ঘরে ঘরে’ বিদ্যুৎ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সোলার লাইটের ব্যবস্থা করব। বিদ্যুতের জন্য যেন আর হাহাকার করতে না হয়। আল্লাহ আমাদের এত রোদ দিয়েছে। তাই আমরা কাজে লাগাব।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ ফজলুল করীম সেলিম, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।

শেয়ার