ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত ঈদুল আযহা সারা দেশে উৎসবের আমেজ

eid Azha
ইন্দ্রজিৎ রায়
ত্যাগের মহিমায় পশু কুরবানি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বুধবার যথাযোগ্য মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা উদ্যাপিত হয়েছে। এ উৎসব উপলক্ষে মুসলিম উম্মার ঘরে ঘরে ছিল নানা আয়োজন। ঈদুল আযহা’র কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় কয়েকদিন ধরে চলছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় যশোরে পবিত্র ঈদুল আযহা’র প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। কালেক্টরেট জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ইয়াসিন এ নামাজে ইমামতি করেন। জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তার এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও কারবালা প্রাঙ্গন, কাজীপাড়া কাঠালতলা, মার্কাস মসজিদ, রেলস্টেশন, মহিলা মাদ্রাসা, শংকরপুর, ঘোপ, উপশহরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের বাইরে প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের নামাজে ঈদগাহ ময়দানে ছিলো উৎসবের আমেজ। বেশিরভাগ ঈদগাহে সকাল ৮ টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু যুবক কিশোরসহ সকল বয়সী মানুষ সকাল থেকে ঈদগাহে সমাবেত হন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহর ছিল জনশূণ্য। দোকান পাট বন্ধ ও পরিবহণ চলাচল বন্ধ ছিল। বিকেলের পর থেকে লোক সমাগম বাড়তে থাকে। তবে ভিন্ন চিত্র ছিল গ্রামাঞ্চলে। গ্রামের মোড় ও পাড়া মহল্লায় লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মত। নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়া মানুষের উপস্থিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে ঈদ আয়োজন। ঈদকে ঘিরে শহর ও গ্রামের মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়।
ঈদের নামাজের পরই ফিরনি সেমাই খাওয়া শেষ করেই শুরু হয় পশু কুরবানি এবং ধর্মীয় বিধান মতে দরিদ্র অসহায়, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিদের মাঝে বিতরণ করা হয় কুরবানির মাংস। অসহায় দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি গিয়ে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করে। আবার অনেকেই বিকেলে কুরবানির মাংস নিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। এই ঈদের মূল আকর্ষণ পশু কুরবানি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। ঈদের দিন থেকে বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উৎসব আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি।
লম্বা ছুটিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছে। গত কয়েকদিন ধরে পরিবহনের বেড়েছে যাত্রির সংখ্যা। পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে অনেকাংশ। তবে এ ভাড়া বকশিস হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। যশোরের বিনোদন কেন্দ্র বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক, জেস গার্ডেন, মণিহার সিনেমা হল, বিমানবন্দর সড়ক, বোর্ট ক্লাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভি দেখা গেছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষ নির্বিঘে চলাচল করতে পারছে।

শেয়ার