“অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি নয়”

PM Ha
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক এগারোর মতো কোনো অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি জনগণ চায় না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ঈদ ও পূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গণতন্ত্রকে একটি সুদৃঢ় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হবে যখন তা সাংবিধানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।”

২০০৭ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১/১১-এর মতো কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকের উপর চেপে বসে তখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্র-পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ সবার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। এধরণের অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি আর কখনোই হবেনা – এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় এক পট পরিবর্তনে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনা সমর্থন নিয়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ।

তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওই সরকার ক্ষমতায় থাকে দুই বছর। সে সময় দুর্নীতির মামলায় বহু রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার হন শীর্ষ দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াও।

শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফেরে।

তার পাঁচ বছর পর দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আশঙ্কার মধ্যেই জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ।

তার এই ভাষণে সরকারের গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি আগামী নির্বাচন নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার