চামড়া সংরক্ষণ এর কাজ চলছে পুরোদমে

lether
সমাজের কথা ডেস্ক॥
কোরবানির ঈদের পরদিনই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারিত হয় ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারিত হয় ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দাম সবখানে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ছাগল, ভেড়া ও মহিষের লবণযুক্ত চামড়ার দাম সবখানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অথচ বৃহস্পতিবার লালবাগের পোস্তার চামড়ার আড়তে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে।

পোস্তার আমানউল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক ও চামড়ার আড়তদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা ঢাকার লবণবিহীন গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১১০ টাকা বর্গফুট দরে কিনছি।’

নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে চামড়া কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ট্যানারির মালিকরা তাদের লোক দিয়ে বেশি দামে চামড়া কিনছে। তাই, আমরাও বেশি দামে কিনছি। আমরা তো আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।’

ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের চামড়া আসতে থাকে লালাবাগের পোস্তার আড়তে। ঢাকার বাইরের চামড়া এক সপ্তাহ পর থেকে আসবে বলে জানান আড়তদাররা।

তারা জানান, তিন থেকে চারটি হাত বদলের পর লালবাগের পোস্তায় চামড়া আসছে। প্রথমে স্থানীয় প্রভাবশালীর হাতে চামড়া যায়। এরপর মৌসুমী ব্যবসায়ী, ফড়িয়া হয়ে চামড়া আসে পোস্তার আড়তে।

পোস্তার আড়তদাররা আবার ট্যানারির মালিকের কাছে লবণযুক্ত চামড়া বিক্রি করেন। তবে চামড়ার দাম বাড়ার কারণে রাজধানীর অনেক ট্যানারির মালিক তাদের লোকজনের মাধ্যমেও চামড়া সংগ্রহ করছেন।

তবে এবার পোস্তার আড়তদাররা বলছেন, ঝুঁকি নিয়ে এবার বেশি দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার দাম নির্ধারিত দামের থেকে বেড়েছে। ফলে, অনেক আড়তদার শঙ্কায় আছেন।

পোস্তার আড়তদার ও টিএস ট্রেডিংয়ের মালিক হাজী টিপু সুলতান বলেন, ‘প্রতিটি গরুর চামড়া দুই হাজার আটশ, দুই হাজার নয়শ ও তিন হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনেক চামড়া ৩৫ বর্গফুট হবে। সেই চামড়াও তিন হাজার টাকায় কেনা পড়ছে। ঝুঁকি নিয়ে এবার আমরা বেশি দামে চামড়া কিনছি। পরে ট্যানারির মালিকরা যদি দাম বেশি না দেয়, তাহলে আমরা পথে বসে যাবো।’

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার চামড়া সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে অনেক চামড়া এখনো কিছু মুনাফালোভী আটকে রেখেছেন। তারা যদি যথাসময়ের মধ্যে চামড়ায় লবণ না দেয়, তবে চামড়ার গুণাগুণ নষ্ট হয় যাবে।

কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘চামড়ার দাম নির্ধারণ করায় এবার চামড়া সংগ্রহ অনেক সহজ হবে। এবার আমরা ৬০ থেকে ৬৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া আটকে রেখেছেন। তারা এখনো চামড়ায় লবণ দেননি। তারা যেন ১২ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দেন।’

তবে চামড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাগ্য নির্ভর করছে বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) ওপর।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছি। যারা এর থেকে বেশি দামে চামড়া কিনছেন, তারা কোথায় বিক্রি করবেন, তা আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ট্যানারির মালিকরা কখনো সরাসরি চামড়া কেনেন না। যারা এমন অভিযোগ করেছেন, তারা মিথ্যাচার করছেন। আমরা বিভিন্ন হাটঘাট ও পোস্তার আড়তদারের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকি।’

শেয়ার