শডিউিল বর্পিযয়ে ঘরমুখোদরে ভোগান্তি

Rell
বাংলানিউজ :
রাত পোহালেই ঈদুল আযহা। শেষ সময়ে রাজধানী ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ। বাস, ট্রেন, লঞ্চে টিকেটও নেই।

টিকেট না পেয়ে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন, লঞ্চ ও বাসের ছাদে করেও বাড়ি ফিরছেন। ট্রেন ও লঞ্চের মধ্যে তিল ধরার ঠাঁই নেই।

অন্যদিকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। শেষ সময় হওয়ায় ট্রেনে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে স্টেশন ছাড়তে দেখা গেছে।

টিকেট না পেলেও ট্রেনে উঠতে পারাই টিকেট বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা। কমলাপুর স্টেশনে এসে থামল সুন্দরবন এক্সপ্রেস। সাড়ে ছয়টায় আসার কথা থাকলেও ট্রেন এসেছে নয়টায়।

অপেক্ষারত হাজার হাজার যাত্রী ট্রেন থামানোর সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে উঠতে শুরু করল। বগির দরজা, জানালা বেয়ে অনেকটা যুদ্ধ করেই উঠতে থাকলো যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ট্রেন ভর্তি। কয়েকজন যাত্রী জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে উঠেছেন। শত শত যাত্রী মুর্হুতে ছাদে উঠে বসে পড়লেন।

চরম এ ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারা যাত্রী অভি মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, টিকেট নেই। ট্রেনে উঠতে পারাটাই টিকেট। এ ট্রেনে বাড়ি ফিরতে না পারলে আর ঈদ করা হবে না। শরীরের অনেকাংশ ব্যথা পেলেও শেষ চেষ্টা করে বাড়ি ফেরার মজাই আলাদা বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

ট্রেনের নিচ দিয়ে পার হয়ে উল্টো পাশে তিনটি ব্যাগ কাঁধে অনেকটা মারপিট করে ট্রেনে ওঠা যাত্রী হুমায়ূন কবির বলেন, এত কষ্টের পরও ভেতরে দাঁড়িয়েছি নড়ার কোন সুযোগ নেই। এভাবে ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এরপরও আপনজনের সঙ্গে ঈদ করার মজাই আলাদা। শেষ সময়ে ট্রেন পেয়েছি এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।’

ট্রেনের দরজার হাতল ধরে ঝুলে থাকা গার্মেন্ট শ্রমিক সুরাইয়া বাংলানিউজকে জানান, ‘সিট তো নেই, ভেতরে তিল ঠাঁইও নেই। এভাবে ঝুলে যত টুকু যাওয়া যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে- তবে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।’

মানব ঢাল করে আট বন্ধু ছাদে উঠছে। চরম ঝুঁকি থাকা সত্তেও তারা উঠেছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও তাদের ছাদ থেকে নামাতে পারেনি।

তাদের মধ্যে সবার চেয়ে লম্বা ইমান আলী বাংলানিউজকে জানান,‘ছাদে চরম ঝুঁকি। কিন্তু বাড়ি তো ফিরতেই হবে। বাড়ির সবাই পথ চেয়ে আছে। আমি গেলে কুরবানির গরু কেনা হবে। আমি তো একা নয়, হাজার হাজার যাত্রী এ রকম ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছে। হলে সবার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

অন্যদিকে; ঈদের আগদিন মঙ্গলবারও আগের চেয়ে বেশি শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। কোনভাবেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি।

কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নয়টি বিশেষ ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে পারাবত এক্সপ্রেস দেড় ঘণ্টা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস পৌনে দুই ঘণ্টা, তিস্তা সোয়া এক ঘণ্টা, মহানগর গোধুলী দেড় ঘণ্টা, দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেস দেড় ঘণ্টা, এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস পৌনে দুই ঘণ্টা, অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস পৌনে এক ঘণ্টা, বলাকা এক্সপ্রেস দেড় ঘণ্টা, জয়ন্তিকা এক্সেপ্রেস দুই ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।

এছাড়া ওইসব ট্রেন এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে এসে পৌঁছেছে। একতা, রংপুর এক্সপ্রেস নয়টায় আসার কথা থাকলেও কাউন্টার থেকে সোয়া এগারটায় স্টেশনে এসে পৌঁছাবে বলে মাইকে বলা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, রোববার ও সোমবার শিডিউল বিপ বিপর্যয় মাত্রা কম থাকলেও মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি শিডিউল বিপ বিপর্যয় হচ্ছে। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, এমনকি অন্য ট্রেনগুলোতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত শিডিউল বিপ বিপর্যয় হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে ট্রেন পরিদর্শনে আসা রেলমন্ত্রী মো. মজিবুল হক সাংবাদিকদের জানান, শেষ সময়ে কিছু দেরি হচ্ছে। এটাকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যাবে না। শেষ সময়ে সব যাত্রী এক সঙ্গে যেতে চাচ্ছে বলে দেরি হচ্ছে। আমরা সময়সূচি ঠিক রাখার জোর চেষ্টা চালাচ্ছি বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

শিডিউল বিপর্যয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেষ সময়ে বাড়ি ফিরলেও যাত্রীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।Rell

শেয়ার