রাত পোহালেই খুশির ঈদ

eid
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ/ রাহেলিল্লাহ কে আপনাকে বিলিয়ে দিল, কে হ’ল শহীদ।/ যে কোরবানী আজ দিল খোদায় দৌলত ও হাশ্মত,/ যা’র নিজের ব’লে রইলো শুধু আল্লা ও হযরত,/ যে রিক্ত হয়ে পেল আজি অমৃত-তৌহিদ।/ ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ/ কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতো করেই বুধবার বকরিদ বা কোরবানি করার দিন, পরম প্রিয় বস্তু কোরবানির প্রতীকী ত্যাগের দিন ঈদুল আজহা। মনের পশু হত্যার দিন। কোরবানির পশুর মাংস গরিব-দুঃখী, আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার দিন। ত্যাগের দিন হলেও ঈদ মানেই আনন্দ। সেই আনন্দে ভাসছে দেশ। পছন্দের কোরবানির পশুগুলোর জন্য শেষ মুহূর্তে চলছে হাট থেকে হাটে ফেরা। তবু কান্তি নেই। সবাই আছেন ত্যাগের পরীায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দের অপোয়।
চার হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই অনন্য ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহপাকের অনুগ্রহ কামনায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। তাই কোরবানি করাই এই দিনের উত্তম ইবাদত বলে ধর্মীয়ভাবে বলা হয়েছে। মনের পশুকে দমন করতেই প্রতীকী এই পশু কোরবানির বিধান। ১০ জিলহজ থেকে তিন দিন কোরবানি করা যায়।
সচ্ছলদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না দরিদ্ররাও। কোরবানি দেয়া পশুর মাংসের তিনভাগের একভাগ তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া ইসলামের বিধান। আর ঈদ মানেই তো সম্প্রীতির বন্ধন। তাই আপনজনের মধ্যেও বিলি-বণ্টন করবেন আরো একভাগ। আর নিজের জন্য একভাগ।
পবিত্র কোরআনে সামর্থ্যবানের জন্য কোরবানি করাকে ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয় বলা হয়েছে। সূরা কাউছারে বলা হয়েছে, ‘সৃষ্টিকর্তার নামে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।’ এছাড়া সূরা হজে বলা হয়েছে, কোরবানি করা পশু মানুষের কল্যাণের নির্দেশক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘কোরবানির পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই আমার কাছে পৌঁছে না, আমার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ আর হজরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দের কিছু নেই। তাই যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দেয় না, সে যেন ঈদগাহে না যায়।

ঈদ উপলে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
যথারীতি এবারো সারাদেশে ঈদ উপলে মেলা বসবে। ঈদ উপলে পিছিয়ে নেই দেশের গণমাধ্যমও। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ঈদ আয়োজন। টিভি চ্যানেলগুলোয় রয়েছে প্রায় সপ্তাহব্যাপী ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান।
ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে সবাই ছুটছেন প্রিয়জনের কাছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে অগণিত মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন ৪-৫ দিন ধরে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় এখন শেষ মুহূর্তেও।

শেয়ার