বিভেদ ভুলে এক হওয়ার প্রার্থনা হজে

HAJJ
সমাজের কথা ডেস্ক॥
বিভেদ ভুলে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা জানালেন হজ পালনরত ১৪ লাখ মুসল্লি।
১১৮টি দেশ থেকে সৌদি আরবে সমবেত মুসল্লিরা সোমবার আরাফাতের ময়দানে হজের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর ইবাদত-বন্দেগির সঙ্গে হজের খুতবা শোনার পাশাপাশি জোহর ও আসর নামাজ আদায় করেন তারা।
খুতবায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ সিরিয়ায় ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের প্রোপটে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বলে আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে।
শেখ আবদুল আজিজ বলেন, “আপনাদের মনে রাখা উচিত, তোমাদের শত্রুরা তোমাদের তি করার জন্য তৈরি আছে। তারা আপনাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়। তাদের মোকাবেলার এখনি সময়।”
‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক- হে আল্লাহ, তোমার ডাকে আমি হাজির’ ধ্বনিতে ভোর থেকে মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে রওনা হতে শুরু করে মুসল্লিরা।
মিনায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও আরাফাতের ময়দানে কার্যক্রমকেই হজের মূল অনুষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়। ১৪শ’ বছরেরও বেশি সময় আগে এ আরাফাতের ময়দানেই বিদায়ী হজের ভাষণ দেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
এর আগে মক্কা নগরীর কাবা শরিফ থেকে রওনা হয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মিনায় জড়ো হন ১৪ লাখ মুসল্লি, যার মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার গেছেন বাংলাদেশ থেকে।
ইবাদত-বন্দেগিতে মিনায় রাত কাটানোর পর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় জিকির করেন তারা। নামাজ পড়েন জামায়াতের সঙ্গে। এরপর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য ভোরে মিনা থেকে যাত্রা করেন ১০ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে।
শুভ্র সেলাইবিহীন এক কাপড়ে মুসল্লিরা আরাফাতের ময়দানে দিনভর ইবাদত-বন্দেগির পর মিনায় ফেরার পথে সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েন। মুজদালিফায় রাতে থাকার সময় পাথর সংগ্রহ করেন তারা, যা মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মিনায় ফিরে শয়তানকে (প্রতীকী পাথর ছুড়বেন। কোরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করার পর সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফ করে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
এই বছর হজ পালনে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, হজ সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য সব ব্যবস্থাই নেয়া ছিল।
এবার হজ পালন করতে যাওয়া মুসল্লির সংখ্যা গতবারের অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রধান মসজিদে সংস্কার কাজ চলায় এবার সৌদি কর্তৃপই কম মুসল্লিকে হজের অনুমতি দিয়েছে।
এ কারণে স্থানীয়দের হজ পালনেও এবার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালেদা আল ফয়সাল জানান।
তিনি বলেন, হজ পালনে ইচ্ছুক প্রায় ৭০ হাজার সৌদিকে নিরাপত্তা রীরা ফিরিয়ে দেয়।

শেয়ার