বাড়ি ফেরার তাড়া প্রচণ্ড ভিড় বাসে-ট্রেনে

Journey
সমাজের কথা ডেস্ক॥
ঈদের একদিন আগে বাসস্ট্যান্ড-স্টেশনে বাড়িমুখো মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। চলছে বাড়ি ফেরার জোরপ্রস্তুতি। তবে এ সুযোগে বাসে বেশি ভাড়া এবং ট্রেনে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেল ৫টায় গাজীপুর সদর উপজেলার চান্দনা-চৌরাস্তায় হাজার হাজার মানুষকে বাসের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাসের ছাঁদে, মাইক্রোবাসে, ট্রাকে, পিক-আপে চড়তে দেখা যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক নারী ও শিশুকে বাসের ছাঁদে উঠতেও দেখা গেছে।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামালপুরে যাওয়ার জন্য বাসের অপোয় স্থানীয় ভোগড়া এলাকার গরীব এন্ড গরীব সোয়েটার কারখানার শ্রমিক রহিমা আক্তার স্বপরিবারে চান্দনা-চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, “যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম থাকায় গাড়িতে উঠতে যেন যুদ্ধ চলছে।”
দু’বছরের শিশু সন্তান নিয়ে ভেতরে উঠতে গেলে চিড়ে-চ্যাপ্টা হওয়ার ভয়ে শেষে স্বামী সস্তানসহ বাসের ছাদেই ওঠেন তারা।
এজন্য তাদের মাথা পিছু দুইশ’ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়েছে।
একই জেলার বকশিগঞ্জ যাওয়ার জন্য সিয়াম পরিবহনের একটি বাসে অনেক কষ্টে ওঠেন নাওজোর দিগন্ত সোয়েটার কারখানার শ্রমিক খোরশেদ আলম।
সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলেও তাকে তিনশ’ টাকা ভাড়া দিতে হবে। যারা সিট পেয়েছেন তাদের প্রায় তিনগুন ভাড়া পাঁচশ’ টাকা দিতে হচ্ছে।
একই কথা বললেন স্থানীয় ভোগড়া বাইপাস এলাকার কাঁচামাল আড়তের ব্যবসায়ি শহীদুল ইসলাম।
শ্যামলী বাংলা বাসের সহকারী চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহর্ রীজ পর্যন্ত সিটে বসে যেতে তিনশ টাকা, দাঁড়িয়ে গেলে দুইশ’ টাকা এবং ছাদের জন্য একশ’ টাকা ভাড়া হেঁকেছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে শ্যামলী বাংলা বাসের হেল্পার বলেন, “ঈদে আমাদেরও টাকার প্রয়োজন। দুদিন পর যাত্রীর অভাবে আমাদের বসে থাকতে হবে। তাই এ সুযোগে আমরা কিছু কামিয়ে নিচ্ছি।”
ব্যাপারটি সেখানে কর্তব্যরত জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদেরকে যানজট সরাতেই সারাণ ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তাই এই ব্যাপারে মনোযোগ দিতে পারছি না।”
একই অবস্থা গাজীপুর সদরের কোনাবাড়ি, ভোগড়া বাইপাস মোড়, কালিয়াকৈর চন্দ্রা মোড়, টঙ্গীর স্টেশনরোড, শ্রীপুরের মাওনা-চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা যায় ট্রেনে ছাঁদে, ইঞ্জিনের পাশে ও দরজায় বাদুর ঝোলা হয়ে মানুষ গন্তব্যে ফিরছেন।

শেয়ার