সোহাগ গাজীর অনন্য কীর্তি

168885
সমাজরে কথা ডস্কে॥ ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্টেই নিজেকে আরও ভালোভাবে চেনালেন সোহাগ ‍গাজী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ দিন দলকে তো প্রথম ইনিংসে এগিয়ে নিয়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এই বোলার। পঞ্চম ও শেষ দিন জাদুকরী ঘূর্ণি দেখালেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে পেলেন টেস্ট হ্যাটট্রিকের মতো দুর্লভ অর্জন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়লেন এক ইনিংসেই সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের অনন্য রেকর্ড।

গত বছর নভেম্বরে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল গাজীর। তার দারুণ পারফরমেন্সে অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাককে ভুলেই গিয়েছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবশেষে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে নামলেন রাজ্জাক ও গাজী। দিন যে ফুরিয়ে যায়নি রাজ্জাক সেটা প্রমাণ করেছিলেন প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে। আর গ‍াজী দেখিয়ে দিলেন তারুণ্যের শক্তি।

শনিবার চতুর্থ দিন গাজীর হার না মানা শতকে বাংলাদেশ নিয়েছিল ৩২ রানের লিড। অভিষেক শতকের পর সংবাদ সম্মেলনে ২২ বছর বয়সী তারকা জানিয়েছিলেন জেতার জন্যই শেষদিন নামবে তার দল। কথা রেখেছেন ডানহাতি এই স্পিনার। ২৬ ওভারে ৭৭ রানে একাই ছয় উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাটসম্যানদের উপর বাকি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। টেস্টে এটি তার দ্বিতীয় সেরা বোলিং পারফরমেন্স।

লাঞ্চের আগে কেন উইলিয়ামসন ও পিটার ফুলটনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নেন গাজী। বিরতি শেষে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও সাজঘরে পাঠান। আর দলীয় ৮৫তম ওভারে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে একে একে কোরি এন্ডারসন, বিজে ওয়াটলিং ও ডগ ব্রেসওয়েলকে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন গাজী।

গাজীর হাত ধরে দুবছর পর ৩৯তম হ্যাটট্রিকের মুখ দেখল আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট। সর্বশেষ ২০১১ সালে নটিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। আর দেশের হয়ে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক বোলারের তালিকায় নাম লেখালেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার। এর আগে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পরপর তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন অলক কাপালি, সেই ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে।

আন্তর্জাতিক টেস্টে ৩৭তম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন গাজী। দুবার করে হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হিউজ ট্রাম্বল ও পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম।

শেয়ার