সমাজের কথা আলোর পথের ঠিকানা বলে দেবে

fakrealam
ফখরে আলম
আপনারা সবাই জানেন, ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোর। নীল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, ফুল বিদ্রোহ ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের আতুঁর ঘর ঐতিহাসিক এই যশোর। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সূর্য ১৯৭১ এর ৬ই ডিসেম্বর যশোরে উঠেছিল। এছাড়া দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলার মুকুট যশোরের মাথায়। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি যশোরে সংবাদপত্রের যে আলোকময় ইতিহাস এখনো দ্যূতি ছড়াচ্ছে তা অবিস্মরণীয়। ১৮৬২ সালে প্রজাহিতৈষী জমিদার শিশির কুমার ঘোষ যশোরের ঝিকরগাছার মাগুরা গ্রাম থেকে পাক্ষিক অমৃত প্রবাহিনী পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটিই যশোরের প্রথম সংবাদপত্র। ব্রিটিশ শাসক আর ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে অত্যাচারিত কৃষকের পক্ষের কণ্ঠস্বর অমৃত প্রবাহিনী একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে যশোর ছাড়াও কলকাতার পাঠকদের কাছে সমাদৃত হয়। ১৯৬৩ সালে মাহমুদ-উল-হক প্রকাশ করেন নতুন দেশ। ১৯৭০ সালে আব্দুস সালাম প্রকাশ করেন মাতৃভূমি নামের একটি পত্রিকা। ১৯৭১ এ ঐ দুটি পত্রিকা প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করে। একাত্তরের ২৩ মার্চ মাতৃভূমি পত্রিকার ব্যানার হেডলাইন ছিল, ‘স্বাধীন সর্বভৌম পূর্ববাংলা দীর্ঘজীবী হোক। আজ থেকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি পূর্ববাংলা স্বাধীন।’ ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত যশোর থেকে মিয়া আব্দুস ছাত্তার স্ফুলিঙ্গ পত্রিকা প্রকাশ করে ইতিহাসে নাম লেখান। ১১ ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত যশোর টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রথম জনসভা। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মেদের ঐ জনসভার খবর তিনি স্ফুলিঙ্গের তিনটি সংস্করণে প্রকাশ করেন। ১৯৭২ সালে নুরুল আলম দেশহিতৈষী, ১৯৮০ সালে গোলাম মাজেদ রানার, ১৯৮১ সালে মহিউদ্দিন আহম্মেদ পূরবী, ১৯৮৫ সালে একরাম-উদ-দ্দৌলা কল্যাণ, ১৯৯৬ সালে ফকির শওকত লোকসমাজ, ১৯৯৮ সালে মবিনুল ইসলাম মবিন গ্রামের কাগজ, পরবর্তীতে ফকির শওকত সম্পাদিত প্রভাতফেরীসহ আরও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ঐ পত্রিকাগুলি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ‘সমাজের কথা’ও অন্যতম একটি দৈনিক। আমরা লক্ষ্য করছি, সমাজের কথা এই সমাজের কথাই বলছে। যশোরের সংবাদপত্রের ইতিহাস ঐতিহ্য অনুসরণ করে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পত্রিকাটি তার নিজের স্বকীয়তার কারণে এরই মধ্যে যশোরের সংবাদপত্রের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদপত্রের আলোকময় ইতিহাসের পথ অনুসরণ করে সমাজের কথা তার নিজের চলার পথ ঠিক করবে। সেই চলার পথ আলোকময় হবে। হবে বন্ধুরও। কিন্তু পত্রিকাটি নিজের আলোয় অন্ধকার দূর্গম পথ অতিক্রম করে হাজার হাজার পাঠককে আলোর পথের ঠিকানা বলে দেবে।

ফখরে আলম
কবি, সাংবাদিক

শেয়ার