ঝিকরগাছা থানার ওসির নেতৃত্বে চলছে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিকরগাছা॥ যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের অব্যাহত ছিনতাই আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। খোদ ওসি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে চলছে এ কর্মকান্ড। মাদকব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীসহ অপরাধীদের সাথে পুলিশের সখ্যতা গড়ে উঠায় হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারন জনগন। প্রতি সপ্তাহে ওসির অবৈধখাত থেকে আয় কমপক্ষে তিনলাখ টাকা। ডিআইজি ও এসপির নাম ভাঙিয়ে তিনি এ অপরাধ কর্মকান্ডের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। তিনি তার আজ্ঞাবহ কয়েক দারোগাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সড়ক ও স্পট থেকে বেশুমার চাদা ও ছিনতাই কর্মকান্ড করে চলেছেন। গত ৬ অক্টোবর রোববার বেলা ১২টার দিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস থেকে ৪ যুবককে ধরে এনে ৭ হাজার টাকা ছিনতাই করে পুলিশ। এঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওসি কামরুজ্জমান গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা থানায় যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি অপরাধীদের তালিকা নিয়ে মাঠে নামেন। তবে তাদের আটক করতে নয় তাদের সাথে চুক্তি করতে। তিনি থানার দারোগাদের চাঁদাবাজি কাজে ব্যবহার করে আদায় করছেন চুক্তির টাকা। আর এএসআই হারুন ও কনস্টেবল সিরাজের মাধ্যমে মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। গত ৬ অক্টোবর বেলা ১২ টার দিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা যশোর অভিমুখি একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৪ যুবককে আটক করেন এএসআই হারুন ও কনস্টেবল সিরাজ। বেনাপোল সড়কের হাজেয়ালী মহসিন ভাটা এলাকায় বাসটি থামিয়ে তাদের টেনে হেচড়ে নিচে এনে তল্লাশীর নামে কাছে থাকা ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার শিকার যুবকদের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাতি এলাকায়। তাদের মধ্যে একজনের নাম শিপন। এছাড়া ওসি যোগদানের কয়েকদিন পর যশোর শহরের এক যুবককে দুই পুরিয়া গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। এরপর তাকে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে মামলা ও আদালতে চালানের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা আদায় করেন ওসি। শুধু এসব করেও থেমে নেই দুর্নীতিবাজ ওসি কামরুজ্জামান। তিনি বিভিন্ন মাদক স্পট ও জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত উৎকোচ আদায় এবং বেনাপোল সড়ক দিয়ে আসা গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি করছেন। প্রতি ট্রাক থেকে ২শ টাকা হারে আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন চোরাকারবারী, মাদকব্যবসায়ী ও গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে থানার এএসআই ইউসুফকে। এব্যাপারে ওসি কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা যা হয়েছে তা লেখার দরকার নেই। আপনি একটু সময় করে থানায় এসেন। কথা হবে চা খাওয়া হবে।

শেয়ার