চীনে ঝিঁঝি পোকার লড়াইয়ের মওশুম

cricat insect
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হেমন্তে শীত পড়তে আরম্ভ করলেই হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যটা আবার মাথা নাড়া দেয়৷ মোরগের লড়াই-এর মতোই, তবে রক্তশূন্য৷ জুতোর বাক্সের মতো একটি রিং-এ ঘুষোঘুষি করছে ‘কালো ঠ্যাং’-এর বিরুদ্ধে ‘লাল দাঁত’৷ রোমাঞ্চকর!
ঝিঁঝি পোকার লড়াই যেহেতু রক্তশূন্য, সেহেতু বক্সিংয়ের মতো পয়েন্টে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় বলা চলে- অর্থাৎ কোন ঝিঁঝি পোকা বেশি আগ্রাসী কিংবা বেশি মারকুটে৷ লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজি ধরা চলে৷ তবে স্পোর্টিংয়ের দিকটাও আছে৷ বেইজিংয়ে এখন চলেছে জাতীয় ঝিঁঝি পোকার লড়াই চ্যাম্পিয়নশিপ৷ সারা চীন থেকে আসা গোটা বিশেক দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে৷ ফ্যানরা সিগারেট আর চুরুটের ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হলে ভিড় করে বসে টেলিভিশনের পর্দায় ম্যাচগুলো দেখছেন৷
ঝিঁঝি পোকাদের নাকি সাংঘাতিক ‘ফাইটিং স্পিরিট’৷ তারা নাকি হারতে জানে না৷ সেটাই নাকি ফ্যানদের সবচেয়ে ভালো লাগে৷ ঝিঁঝি পোকাদের টিমগুলোর মালিকরা নাকি গোটা চীন থেকে এই সব ঝিঁঝি পোকা সংগ্রহ করেন৷ কোনো কোনো লড়াকু ঝিঁঝি পোকার দাম নাকি দেড় হাজার ডলারের বেশি৷
অথচ তাদের রাখা হয় খিড়কির উঠোনে ছোট ছোট মাটির জারে৷ তাদের খাওয়ানো হয় সিম বাটা আর জল, যা নাকি হাই প্রোটিন ডায়েট৷ আর সেই সঙ্গে ট্রেনিং তো রয়েছেই৷ পেশাদারি লড়াকু ঝিঁঝি পোকা হওয়াটা তো খুব কম কথা নয়৷
ঝিঁঝি পোকারা বাঁচে ১০০ দিন মতো, আর তাদের জীবনের সেরা সময়টা নাকি হেমন্ত – তাই হেমন্তেই এই চ্যাম্পিয়নশিপ৷ বেইজিংয়ের এই প্রতিযোগিতার নামই সবচেয়ে বেশি, কিন্তু এর আগে চীনের ২৫টি বড় শহরে আয়োজিত আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে তবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আসতে হয়৷ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি দল ৩৫টি ঝিঁঝি পোকা রাখতে পারে৷ প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগের দিন প্রতিটি প্রতিযোগী ঝিঁঝি পোকাকে ওজন করে তার গায়ে লেবেল সেঁটে দেয়া হয়৷ কুস্তি, ভারোত্তলন কিংবা বক্সিং-এর মতো ঝিঁঝি পোকার লড়াইতেও ওজন অনুযায়ী বিভাগ৷
ঝিঁঝি পোকারা লড়াকু হতে পারে, কিন্তু বদমেজাজি নয়৷ খামোখা নিজেদের মধ্যে মারামারি করাটাও ঝিঁঝি পোকাদের এটিকেটের মধ্যে পড়ে না৷ কাজেই তাদের এক টুকরো খড় কিংবা কাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে উত্ত্যক্ত করতে হয় -তবেই তারা পরস্পরের সঙ্গে মারামারি শুরু করে৷ তবে তার আগে বিচারকের নির্দেশে দুই ঝিঁঝি পোকার মাঝের খুদে বেড়াটা সরিয়ে ফেলতে হয়৷ তাও যে তারা সঙ্গে সঙ্গে কুস্তি শুরু করবে, এমন কথা নেই৷ তবে তারা যখন পাখায় পাখা ঘষে ঝিঁঝি শব্দ করতে শুরু করে, তখন বোঝা যায় যে, এবার হেস্তনেস্ত একটা কিছু ঘটতে চলেছে৷বিচারকরা ম্যাচ পয়েন্ট নির্ধারণ করেন ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুযায়ী৷
ও হ্যাঁ, ইংরেজিতে ঝিঁঝি পোকার নামটা মনে আছে তো? ইংরেজিতে এদের বলে ‘ক্রিকেট’৷ কাজেই খেলাধুলোর খবর হলো বৈকি৷ সূত্র: রয়টার্স।

শেয়ার