চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র

draw
সমাজরে কথা ডস্কে॥ ২০০৮ সালে এই চট্টগ্রামেই বাংলাদেশের মুখোমুখি লড়াইয়ে বিপদে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেবার দলকে উদ্ধার করেছিল সফরকারী অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি। পাঁচ বছর পর সেই চট্টগ্রামের নতুন ভেন্যুতে ড্র করলেও বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের আরও পরিণত চেহারা দেখল কিউইরা। মমিনুল হক ও সোহাগ গাজীর নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইয়ে এনিয়ে দ্বিতীয় ড্র করল বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড: প্রথম ইনিংস- ৪৬৯/১০, দ্বিতীয় ইনিংস- ২৮৭/৭ ডি.
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস- ৫০১/১০, দ্বিতীয় ইনিংস- ১৭৩/৩ (৪৮.২ ওভার)
ফল: ম্যাচ ড্র

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম দিন থেকে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের দাপুটে পারফরমেন্স শুরু হয়। কেন উইলিয়ামসন (১১৪), বিজে ওয়াটলিং (১০১) ও পিটার ফুলটনের (৭৩) ব্যাটে দ্বিতীয় দিন দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত তা চলতে থাকে। তবে সফরকারীদের পাল্টা জবাব দিতে অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন মমিনুল। অভিষেক শতক গড়ার পাশাপাশি দেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় ইনিংস সেরা রান করেন তিনি।

১৮১ রানে মমিনুল দলকে অনেকদূর টেনে নেন। তবে গাজীর ব্যাটসম্যান রূপে আবির্ভাব চমকে দিয়ে বাংলাদেশকে লিড এনে দেয় ৩২ রানের। হার না মানা ১০১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের লাগাম টেনে ধরতে অসাধারণ বোলিংও করেন ডানহাতি এই স্পিনার।

draw-enপঞ্চম ও শেষদিন একাই তুলে নিয়েছেন ছয় উইকেট। দেশের হয়ে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে করেছেন টেস্ট হ্যাটট্রিক। পাঁচদিনের ক্রিকেটে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচেই শতক ও হ্যাটট্রিকের অনন্য রেকর্ড গড়েন গাজী। মমিনুল প্রথম ইনিংসের সেরা রান করলেও অলরাউন্ডিং পারফরমেন্স করে গাজীর হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

দ্বিতীয় ইনিংসে লাঞ্চের আগে ফুলটন (৫৯) ও উইলিয়ামসনকে (৭৪) সাজঘরে ফেরান ২২ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার। লাঞ্চ থেকে ফিরে নেন কিউই অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (২২) উইকেট। আর দলীয় ৮৫তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে কোরি এন্ডারসন ও বিজে ওয়াটলিংকে ফেরান গাজী। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি। ডগ ব্রেসওয়েলে ব্যাটে বল লেগে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাকিব আল হাসানের হাতের মুঠোয়। টেলর ৫৪ রানে অপরাজিত থাকতে ২৫৫ রানে এগিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড।

২৫৬ রানের লক্ষ্যে নেমে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলেনি বাংলাদেশ। ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক ৩৯ রানের জুটি গড়েন। ১৮ রানে এনামুল সাজঘরে ফেরেন ব্রুস মার্টিনের বলে। প্রথম ইনিংসে খালি হাতে ফেরা তামিম ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। ৪৬ রানে মার্টিনের দ্বিতীয় শিকার তিনি। মার্শাল আইয়ুব ৩১ রানে উইকেট তুলে দেন ইশ সোধির কাছে।

সকিব আল হাসান মাঠে নেমে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দর্শকদের উল্লাসে মাতান। ৩৯ বলে চারটি চার ও তিন ছয়ে এই অলরাউন্ডার ১৪তম টেস্ট ফিফটি গড়লে দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অপর প্রান্তে মমিনুল অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে।

২১ অক্টোবর ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৩ ঘণ্টা, ১৩ অক্টোবর ২০১৩

শেয়ার