উড়িষ্যায় পাইলিনের ধ্বংসযজ্ঞ

phalin
বাংলানিউজ
শনিবার রাত পৌনে দশটার দিকে ভারতের উড়িষ্যার গোপালপুরে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় পাইলিন। রোববার সকাল পর্যন্ত এর আঘাতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও শনিবার সন্ধ্যায় পাইলিনের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ৭ জনের প্রাণহানি হয়।
রোববার সকালে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উড়িষ্যার গোপালপুরে পাইলিনের আঘাতে বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া, বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গোপালপুরের গাছপালাকে রাস্তার ওপর উপড়ে ফেলেছে পাইলিন। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অন্যান্য যোগাযোগ খুঁটি ভেঙে পড়েছে রাস্তা কিংবা ফসল েেতর ওপর। কিছু এলাকার বাড়ি-ঘর প্রলয়ের পর দৃশ্যমান ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নিয়েছে।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সূর্য নারায়ণ সংবাদ মাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আঘাতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রোববার সকাল থেকেই উদ্ধার কাজে নেমেছে প্রশাসন।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকৃত য়তির খবর জানা যাবে।
আঘাত হানার আগে ধারণা করা হয়েছিল, পাইলিনে তিগ্রস্ত হবে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন, ২৪০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে পাইলিন।
পাইলিনের ছোবল থেকে বাঁচাতে উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারতের ২৩ বছরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় আকারে মানুষকে নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা।
উদ্ধার তৎপরতার জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উদ্ধার বাহিনীর (এনডআরএফ) ২ হাজার ৩০০ সদস্য মাঠে নামানো হয়। এছাড়া সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে উদ্ধার কাজে নামানো হয়।
উদ্ধার কাজের জন্য বিমান বাহিনীর ১৮টি শপার, ১২ টি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়। ত্রাণ কাজে উড়িষ্যায় ৬ কলাম ও অন্ধ্র প্রদেশে ৪ কলাম সৈন্য পাঠানো হয়। প্রস্তুত রাখা হয় নৌ বাহিনীর দু’টি জাহাজ ও ৬০টি দল।
ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন পাইলিনকে উড়িষ্যায় ১৯৯৯ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৯ সালে ঘূর্ণিঝড়ে কমপে ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়।

শেয়ার