গড অব ক্রিকেট

শচীন রমেশ টেন্ডুলকার
শচীন রমেশ টেন্ডুলকার

শচীন রমেশ টেন্ডুলকার, শুধু নামেই যথেষ্ট। ১৯৭৩ সালে ভারতের বোম্বেতে (বর্তমানে মুম্বাই) জন্ম তার। ৪০ বছর বয়সী এই ক্রিকেট লিজেন্ডকে বলা হয় ‘গড অব ক্রিকেট’। এছাড়া ডাকা হয় মাস্টার ব্লাস্টার, টেন্ডলিয়া, লিটল মাস্টারসহ অনেক নামে।

বলা হয় শচীনের জন্মই ক্রিকেট খেলার জন্য। ডানহাতি এ মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিকেটকে কি না দিয়েছেন। বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে যে ক’জনের নাম উঠে আসে তার মধ্যে শচীন অন্যতম। Sohin-1

নিজের উচ্চতাকে (৫ ফুট ৫ ইঞ্চি) হার মানিয়ে দিন দিনে উঠেছেন অন্য উচ্চতায়। হ্যামস্ট্রিং, টেনিস অ্যালবো ইনজুরি ক্যারিয়ারে তাকে বার বার পিছিয়ে দিয়েছে। তবু তার রেকর্ড রয়েছে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার। পুরো ক্যারিয়ারে তাকে নিয়ে নেই কোনো বির্তক, কোনো স্ক্যান্ডাল। এমনকি নিজেকে তুলে ধরে দেননি কখনো কোনো বক্তব্য।

টেস্টে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড। এছাড়া শতকের সেঞ্চুরি হাঁকানো বিশ্ব ক্রিকেটে একমাত্র ব্যাটসম্যান শচীন। রয়েছে এক বর্ষপঞ্জিতে টেস্টে ছয়বার ও ওয়ানডেতে সাতবার এক হাজরের বেশি রানের রেকর্ড।
Sohin-220
১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার টেস্ট ক্যারিয়ার। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষেই সূচনা হয় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের। এরপর সর্বশেষ টেস্ট (১৯৮ টেস্ট) ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৩ সালের ২২ মার্চ। আর সর্বশেষ ওয়ানডে (৪৬৩ ম্যাচ) খেলেছেন ২০১২ সালের ১৮ মার্চ।

৫৩ গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে করেছেন ১৫ হাজার ৮৩৭ রান। রয়েছে ৫১ শতক ও ৬৭ অর্ধশতক। আর ৪৪ গড়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেছেন ১৮ হাজার ৪২৬ রান। রয়েছে ৪৯ শতক ও ৪৬ অর্ধশতক। টেস্টে কোনো ত্রিশক না থাকলেও সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ২৪৮। আর ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ২০০। এছাড়া টেস্টে ও ওয়ানডেতে উইকেট রয়েছে যথাক্রমে ৪৫ ও ১৫৪টি। ওয়াসিম আকরামের মতো শচীনও ছয়টি বল ছয় রকম ঘোরাতে পারতেন বলে আলাদা খ্যাতি ছিল।

২০০২ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমনাক তাকে সর্বকালের সেরা বিশ্বের দ্বিতীয় টেস্ট (প্রথম স্যার ডন ব্র্যাডম্যান) ও একদিনের আন্তর্জাতিক (প্রথম ভিভ রিচার্ড) ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি দেয়। ২০১১ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ বিজয়ে শচীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

২০১০ সালে শচীন স্যার গ্যারি সোর্বাস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পাশাপাশি পদ্ম ভি-ভূষণ ও ভারতীয় খেলোয়ারদের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘রাজীব গান্ধী খেল রত্ন’ পুরস্কার অর্জন করেন। ভারতের রাজ্যসভার সদস্য শচীন। এছাড়া প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ও কোনো ধরনের অ্যাভিয়েশন পটভূমি ছাড়াই ভারতীয় এয়ার ফোর্স তাকে ‘গ্রুপ ক্যাপ্টেন’ সম্মানে ভূষিত করে।
Sohin-420
এছাড়া ইউনির্ভাসিটি অব মাইসুর ও রাজীব গান্ধী ইউনির্ভাসিটি অব হেলথ সায়েন্সেস সম্মানসূচক তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

২০১২ সালে আগস্টে শচীন তৃতীয় বারের মতো আইসিসি পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। একই বছর তিনি মনোনীত হন ভারতের রাজ্যসভা সদস্যপদের জন্য। এছাড়া ২০১২ সালে ‘ফোর্বস ওয়ার্ল্ড হাইয়েস্ট পেইড অ্যাথলেটস’ এ ৭৮তম শীর্ষ ধনীর তালিকায় শচীনের নাম উঠে আসে। এরপর ২০১৩ সালে ফোর্বস তালিকায় ৫১তম শীর্ষ ক্রীড়াবিদের তালিকায় নাম চলে আসে তার।

২০১২ সালে অস্ট্রেলীয় সরকার শচীনকে ‘মেম্বার অব দ্যা অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ২৩ ডিসেম্বর শচীন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। আগেই টি ২০ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া ‘গড অব ক্রিকেট’ ২০১৩ সালের মে মাসে ভারতীয় ক্রিকেট লিগ আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

সবশেষ ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরমেট টেস্ট থেকে অবসরের ষোষণা দিলেন এই গ্রেট ব্যাটসম্যান। আগামী নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারত সফরকালে নিজের দু’শতম টেস্টের মাধ্যমে তুলে রাখবেন প্রিয় ব্যাট-প্যাড।

শেয়ার