ঈদে ফ্রিজ বিক্রির ধুম

মাংস সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ফ্রিজ।
মাংস সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ফ্রিজ।
ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র ক’দিন। এই ঈদের অন্যতম আকর্ষণ থাকে গরু, ছাগল কেনা এবং কোরবানি দেওয়া। কোরবানির পর প্রয়োজন হয় এসব মাংস সংরক্ষণের।

আর এ মাংস সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ফ্রিজ। বিশেষ করে এসময় ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজের কদর বেশি। আবার অনেকে অর্ধেক ডিপ, অর্ধেক সাধারণ অংশের ফ্রিজও কেনেন এসময়।

প্রতি কোরবানির ঈদের মতো এবারও ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে রেফ্রিজারেটর। বিশেষ করে ওয়ালটনের ফ্রিজ বিক্রির ধুম পড়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইলেক্ট্রনিকস ওয়ালটনের টার্গেট এবারের ঈদে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফ্রিজ বিক্রি করা।

এবার অক্টোবরের শুরু থেকেই সারা দেশে ফ্রিজের শো-রুমগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। দেশীয় ব্র্যান্ডের ফ্রিজই বিক্রি হচ্ছে বেশি। এরমধ্যে রয়েছে ওয়ালটন, মার্সেল, মাইওয়ান ইত্যাদি।

জানা গেছে, বিক্রি কমে যাওয়ায় বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো এবার ঈদে অন্যবছরের মতো বেশি ফ্রিজ আমদানি করেনি। ফলে এবার শুরু থেকেই বিদেশি ব্রান্ডের ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে ক্রেতাদের চাহিদা পুরণে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতিও ছিল ভালো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদেশি ব্র্যান্ডের এক পরিবেশক জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কোনো ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজ আসছে না। কেন দিতে পারছে না সেটারও ব্যাখ্যা দিচ্ছে না আমদানিকারকের লোকজন। যা আছে প্রদর্শনের জন্য। বিক্রির মতো ফ্রিজ ও ডিপফ্রিজ নেই।

ফ্রিজ কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, মান এক হলেও বিদেশি ফ্রিজগুলোর দাম অনেক বেশি। দামে সাশ্রয়ী, মান ভালো হওয়ায় তিনি ওয়ালটন ফ্রিজ কিনেছেন।

মালিবাগের ওয়ালটন ডিলার নুরুল ইসলাম জানান, গতবারের চেয়ে এবার ওয়ালটন ফ্রিজের চাহিদা অনেক বেশি। প্রোডাক্টের কোনো সংকট নেই।

তিনি জানান, ওয়ালটন ফ্রিজের ডিপ অংশ আমদানি করা ফ্রিজের চেয়ে বড় বলে এটিই বেশি কিনছেন ক্রেতারা।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেটে আবাবিল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন জানান, এবার তাদের দম ফেলার সময় নেই। শেষ মুহূর্তে এতোটা বিক্রির চাপ বাড়বে ধারণা ছিল না। বলা চলে ফ্রিজ বিক্রির ধুম পড়েছে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত ফ্রিজ বিক্রির চাপ থাকবে বলে তার ধারণা।

ওয়ালটনের বিপণন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক সরকার বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং পণ্যের গুণগত উচ্চমান নিশ্চিত করতে নতুন কারখানা স্থাপন করেছে ওয়ালটন। তাই এবার ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করা হয়েছে।

দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইএসও স্ট্যান্ডার্ড বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের মতো এবারও রেকর্ড পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রির প্রত্যাশা তাদের।

মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন রাজীব জানান, গতবারের তুলনায় এবার তাদের বিক্রি বেড়েছে অনেক। ফ্রিজ বিক্রির ক্ষেত্রে মার্সেল এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। তাদের টার্গেট শীর্ষস্থানে যাওয়ার।

তিনি বলেন, রং ও ডিজাইনে বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য এবং উত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে ক্রেতা পছন্দের শীর্ষে চলে এসেছে মার্সেল। মার্সেল ফ্রিজে ডিইসিএস আলট্রাবিড ফোর-ডি, এনার্জি সেভিং ল্যাম্প এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাইওয়ান শো-রুমে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি বেশি দিনের হওয়া, কিস্তি সুবিধা দেওয়া এবং বিক্রয়োত্তর সেবা ভালো হওয়ার কারণে দেশি ফ্রিজের প্রতি মানুষ ঝুঁকছে

মাংস সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ফ্রিজ।
মাংস সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ফ্রিজ।

শেয়ার