২৪ অক্টোবরের পরও সংসদ চলবে

shongshod
সংসদের চলতি অধিবেশন চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। একই সঙ্গে বর্তমান সংসদে উত্থাপিত সবক’টি বিলও পাস করানো হবে। তবে নির্বাচন কমিশন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে সংসদ বিলুপ্ত হবে। কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ বহাল রেখেই নির্বাচন করার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিপরিষদ ছোট করা হবে না বর্তমান আকারেই থাকবে তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন এ দলটির একাধিক সূত্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হোসাইন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম ) জানান, বর্তমান সংসদ তাদের উত্থাপিত কোনো বিল পেন্ডিং রেখে সংসদ বিলুপ্ত করবে না। সে ক্ষেত্রে ২৪ অক্টোবর সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অধিবেশন চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তবে কত তারিখ পর্যন্ত অধিবেশন চলবে তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতেই রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এটা সংবিধানে পরিষ্কার উল্লেখ আছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়বে না। তাই কারো চাপে বা ভয়ে ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
২৪ অক্টোবরের পর নির্বাচন কমিশন যদি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে সে ক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত হবে বলে জানান এইচটি ইমাম।
নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করবে। তিনি চাইলে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ রেখেই নির্বাচন করতে পারেন। আবার ছোটও করতে পারেন। এর সদস্যসংখ্যা কত থাকবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, সংসদের ১৯তম অধিবেশন ২৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি করে বুধবার সংসদের অধিবেশন কার্যক্রম শেষ করেন সংসদ সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ওইদিনবিকালে আবারো বসবে সংসদের ১৯তম অধিবেশন।
এইচটি ইমাম বলেন, ২৫ অক্টোবর সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার কথা প্রচার করে বিরোধী দল জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কারণ তারা চায়- দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে। আর সেটাকে পুঁজি করে কিছু একটা করার ফন্দি আঁটছে তারা।
প্রধানমন্ত্রীর অপর এক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, সংসদ অধিবেশন চালাতে সংবিধানে কোনো বাধা নেই। তাছাড়া নির্বাচিত সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগ সংসদ ছাড়বে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলী ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বুধবার সংসদের ১৯তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ অধিবেশন চলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২৪ অক্টোবর সংসদের মেয়াদ শেষ নয়। বিরোধীদলীয় নেতা ২৪ অক্টোবরকে টার্গেট করে ২৫ অক্টোবর থেকে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সাংবিধানিক নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি করতে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, মূলত ২৪ অক্টোবর সংসদ শেষ হচ্ছে না। ২৪ অক্টোবরের পর ২৫ অথবা ২৬ অক্টোবর বা নভেম্বরের যে কোনো দিন সংসদ অধিবেশন বসতে পারে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হয়তো সংসদ বসবে না। যেহেতু হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে তাই আমি মনে করি ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করা উচিত।
দলটির পার্লামেন্টারি বোর্ডের আরেক সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিরোধী দল দেশে একটা আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ চালাতে সংবিধানে আমাদের জন্য কোনো বাধা নেই। আর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে সংসদ বিলুপ্ত হবে। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিলুপ্ত হবে না। কারণ সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ ছোট করার কোনো কথা উল্লেখ নেই। তাই বর্তমান মন্ত্রিপরিষদই বহাল থাকছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী চাইলে এটাকে ছোট বা বর্তমানের আকারেই রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ১৩ অক্টোবর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা উঠলে একটা প্রস্তাবনা আসতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিপরিষদ বহাল রেখেই নির্বাচনের কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। তারপরও সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছুই করা লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে- দেশে কীভাবে নির্বাচন হবে। সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তার ৯০ দিন আগে নির্বাচন হবে। সংবিধানে আরও বলা আছে, সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সুতরাং এ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার একদিন আগেও সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার কারো নেই। সুতরাং ২৪ তারিখের পরও সংসদ চলতে পারে। এতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।
এ বিষয়ে আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, এটি স্পিকারের ব্যাপার। দলগত অবস্থান থেকে সংসদ নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।

শেয়ার