নতুন বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি পণ্য

exports
নতুন বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি পণ্য

চীন ও ভারতের বাজার বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। দুই দেশই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার হিসেবে এদেরই সমগোত্রীয় অগ্রসর উন্নয়নশীল অন্য দেশগুলোতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশি পণ্য।ইতিমধ্যে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের রপ্তানি আড়াই গুণ বেড়েছে। ব্রিকস জোটের আরও দুই দেশ রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ‘বাংলাদেশে তৈরি’ পণ্য জায়গা করে নিচ্ছে। উল্লিখিত পাঁচটি দেশ হলো অগ্রসর, উন্নয়নশীল ও প্রভাবশালী দেশ, যারা ব্রিকসের অন্তর্ভুক্ত।ব্রিকসের মতো আরেকটি জোট হিসেবে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে মিনটের নাম। মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্ক হলো এই মিনট জোটভুক্ত। এরাও উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এদের মধ্যে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশ ২০১১-১২ অর্থবছরে ৫৫ কোটি ১৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকই রপ্তানি হয়েছে ৪১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার বাজারে কয়েক বছর ধরে ভালো সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি।এভাবেই প্রথাগত বাজারের পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। এ জন্য গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও পণ্য রপ্তানিতে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, নতুন বাজারগুলোতে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। এসব বাজারে প্রবেশ করতে পারলে দুই হাজার ১০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির প্রধান দুই বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার বাজারের মন্দা কাটলেও অর্থনীতিতে এখনো শ্লথভাব রয়ে গেছে। মন্দার কারণে এসব বাজারে চাহিদা সংকুচিত ও পণ্যের দাম কমে গেছে। তা ছাড়া আমেরিকা জিএসপি স্থগিত করায় নতুন সমস্যার তৈরি হয়েছে।একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, পণ্য রপ্তানিতে নতুন বাজারের সাফল্য ধরে রাখতে পারলে ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। তাতে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, চাপ কিংবা হুমকি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। আর শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি। ব্রাজিলে টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আয় হয় ১৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার। তার আগের তিন অর্থবছরে আয় ছিল যথাক্রমে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ, ১১ কোটি ১০ লাখ ও সাত কোটি ১৯ লাখ। তার মানে, গত চার বছরে ব্রাজিলে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

আবার ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মালয়েশিয়া মাত্র তিন কোটি ১৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে এসে সেই রপ্তানি আয় ১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চার বছর আগে মেক্সিকোতে রপ্তানি হয় সাত কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য। সর্বশেষ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে আয় হয়েছে ১২ কোটি ডলার। এ ছাড়া পাঁচ বছরের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় সোয়া দুই কোটি ডলারের রপ্তানি বেড়ে পাঁচ কোটি ডলারে ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চার কোটি ৬৫ ডলারের রপ্তানি আয় বেড়ে ছয় কোটি ৫৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘নতুন বাজারগুলোতে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় আড়াই শ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়। গত অর্থবছর তা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।’ এ ক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত ২ শতাংশ নগদ সহায়তা রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের নীতি-সহায়তা আরও বেশি প্রয়োজন।

আফ্রিকার বাজার বিরাট সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলোতে ৫৯ শতাংশ কর ও শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হয়। আবার সেখানে ব্যাংকিং চ্যানেল না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়। তা ছাড়া বাংলাদেশে কোনো দূতাবাস না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়।’ এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া ও যেসব দেশে মিশন নেই সেসব দেশে মিশন স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার