মুজাহিদের রায় বুধবার

image_45968_0একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মামলার রায় বুধবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে এ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘রায়ের জন্য অপেক্ষমান মুজাহিদের মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামীকাল (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে মুজাহিদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা, সাধারণ মানুষ হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও দেশত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি। মুজাহিদ একক ও দলবদ্ধভাবে সরাসরি জড়িত থেকে ও নেতৃত্ব দিয়ে কিংবা সহযোগিতা ও নির্দেশদানের মাধ্যমে এসব ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
গত ৫ জুন আসামিপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করেছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এর আগে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন। মুজাহিদের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
গত ২ জুন রোবববার থেকে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ল’পয়েন্ট উপস্থাপন শুরু করে শেষ করেন আসাসিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক।
এর আগে গত ৭ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত মোট চারদিন রাষ্ট্রপক্ষ মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। এরপর আসামিপক্ষে সৈয়দ মিজানুর রহমান ও মুন্সি আহসান কবির যুক্তি উপস্থাপন করেন।
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট শাহরিয়ার কবিরের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
অপরদিকে মুজাহিদের পক্ষে প্রথম এবং একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তার ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর।

গত ২২ এপ্রিল প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫ মে দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৭টি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালে ২৯ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও মীর ইকবাল হোসেন।

এর আগে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। মুজাহিদের বিরুদ্ধে পেশ করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ১০৯ পৃষ্ঠার ৩৩টি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ থাকার কথা জানান প্রসিকিউশন।

গত বছরের ৭ জুলাই আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেন ১৫ জুলাই।

এদিকে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি মর্মে ফেরত দিয়ে ১৬ জানুয়ারি পুনরায় দাখিলের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ । এরপর গত বছরের ১৬ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।

শেয়ার