সংসদ গোয়েবলসে ভরে গেছে: অর্থমন্ত্রী

parliamentকোনো ব্যাংক কোম্পানি তাদের মূলধন ও রিজার্ভের ২৫ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। এই বিধান রেখে আজ রোববার জাতীয় সংসদে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল ২০১৩ পাস হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিলের ওপর আলোচনায় বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘হাদিস-বয়ান শোনার জন্য এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হলো, অথচ আইন প্রণয়নের জন্য এক মিনিট, তা তো হয় না।’ নিলোফার চৌধুরী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘কাউকে সুযোগ দেওয়ার আগে আপনি প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন। স্পিকার আপনি, নাকি প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
জবাবে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা যখন কথা বলেন, তখন আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকানোর সুযোগ পাই না।’
বিএনপির রেহানা আক্তার বলেন, ‘যে কয়েকজন মন্ত্রী সরকারের বোঝা, অর্থমন্ত্রী তাঁদের একজন। আমি এই “বোগাস” মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’ শাম্মী আক্তার বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্যরা এখন সংসদে কোরআন তিলাওয়াত করছে। একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি।’
আশিফা আশরাফী বলেন, ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত যেভাবে ব্যাংক লুট হয়েছে, সে কায়দায় এবারও ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের টাকা লুট করে তানভীর-জেসমিন এখন জেলে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর “চক্ষু উপদেষ্টা” বাইরে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছেন।’ আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও এ কে এম হাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংককে টুকরা করার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। এই আইনটি সংশোধনের কাজ তিন বছর আগে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাঁরা তা করেননি। এখন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছেন।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদ গোয়েবলসে ভরে গেছে। সংসদে একজন গোয়েবলসই যথেষ্ট ছিল। গ্রামীণ ব্যাংককে টুকরা করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির দুই আমলে ব্যাংকের টাকা অনেক বেশি লুটপাট হয়েছে। গত আমলে খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে, ভাই ও মামুনকে ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

শেয়ার