১৮ই এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্বর্ণেরবার আত্মসাতের অভিযোগে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের তিন কোটি টাকার স্বর্ণেরবার আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক (২৬) নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখেঁাজের ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালী—পশ্চিম রামনগর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা ফিরোজা বেগম বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেছেন। ওমর ফারুক শার্শা উপজেলার টেংরালী গ্রামের ওসমান আলী ও ফিরোজা বেগমের ছেলে।

মামলার বাদী ফিরোজা বেগম জানিয়েছেন, শনিবার (১১ নভেম্বর) ওমর ফারুক সুমন তার বোনের ছেলেকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ওই দিন রাতে ছেলে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর করেন। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে সোমবার শার্শা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। কিন্তু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাদের অভিযোগ নেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এরপর থানা হতে বের হওয়ার পরই একটি নাম্বার দিয়ে বাদীর ফোনে রিং দিয়ে জানায় তোমার ছেলে সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা আত্মসাৎ করার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই সোনাগুলো ফেরত দিলে তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হবে। এরপর তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বেনাপোল বন্দরের ৩ নাম্বার গেটের সামনে আসতে বলে।

তাদের কথামতো বাদীর ভাই শিমুল বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে বেনাপোল গাজীপুরে শাহাবুদ্দিন গোলদারের তিনতলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় পশ্চিম পাশের কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান বেনাপোল ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (বড়আঁচড়া) কামাল হোসেন, সাদীপুর গ্রামের এজাজ রহমান, শার্শার শালকোনার তরিকুল ইসলাম ও একই এলাকার পলাশ হোসেনসহ ৮—১০ জন ওমর ফারুককে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করছে। আর বলছে, ‘সোনার বার কোথায় রেখেছিস সেগুলো বের করে দে।

এরপর আমার ছেলে আমাকে বলে বাড়িতে গিয়ে রাস্তার পাশে লুকানো ও বাড়ির বাক্সের ভিতর সোনার বারগুলো আছে। সেগুলো নিয়ে তাদেরকে দিয়ে দাও। কিন্তু সেখানে লোকজন নিয়ে তল্লাশি করেও সোনার কোনো বার পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই তার ছেলের আর কোনো সন্ধান নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেছেন, শার্শা থানার ওসি যদি প্রথমে মামলা নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তাহলে আমার ছেলেটার মৃত্যু হতো না বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি বেনাপোল বন্দর থানার মধ্যে হওয়ায় তাদেরকে পোর্ট থানায় যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে মামলা দায়ের হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সাথে সাথে মামলা গ্রহণ করি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছিলো। বৃহস্পতিবার মাগুরা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি সেখানে একটা মরদেহ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শংকর কুমারকে ও নিখোঁজ ওমর ফারুক সুমনের মাকে পাঠানো হয়।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পেঁৗছে উদ্ধারকৃত লাশটি অপহৃত সুমনের লাশ হিসেবে সনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram