১৬ই এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সৃষ্টির পরতে পরতে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ
37 বার পঠিত

সমাজের কথা ডেস্ক : মহাজগতে বিদ্যমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু থেকে শুরু করে সর্ববৃহৎ সৃষ্টি সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব প্রমাণ করে। সাত স্তর আসমান, সাত স্তর জমিন, মহাশূন্যে বিরাজমান লক্ষকোটি গ্রহ-তারা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত সবই মহাপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করে। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তাঁর মহাসত্তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন- (অর্থ) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ব্যাপারে কি তোমরা সন্দেহের মধ্যে রয়েছ? (সূরা ইবরাহিম : ১০)
মহাজগতে প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অস্তিত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ সমুজ্জ্বলরূপে বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের অসংখ্য নিদর্শন মানবসৃষ্টি এবং সৃষ্টিকুলের অপরাপর সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান।

প্রবাদ রয়েছে- স্থাপত্য দেখে স্থপতি চেনা যায়, লেখা দেখে লেখক চেনা যায়, কবিতা দেখে কবির পরিচয় পাওয়া যায়। তাহলে কি এ বিশাল সৃষ্টি ও তাতে বিদ্যমান নিদর্শনাবলি দেখে এসবের অস্তিত্বদানকারী আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না?
আল্লাহ তায়ালা মহাজগতে তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণকারী নিদর্শনাবলির প্রতি নির্দেশ করে বলেছেন- আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রজনীর পরিবর্তনে অবশ্যই নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য, যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও পার্শ্বশয়নে আল্লাহকে স্মরণ করে। আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে ও বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র মহান। তুমি আমাদেরকে রক্ষা করো জাহান্নামের শাস্তি থেকে। (সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১)
শক্ত কঠিন ফলের আঁটি ও শস্যদানা থেকে মাটির বুক চিরে নরম-কোমল অঙ্কুর বেরিয়ে আসে আল্লাহর অদৃশ্য শক্তিতে। এ দিকে ইঙ্গিত করে কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে- নিশ্চয় আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি অঙ্কুরিত করেন, তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। তিনিই তো আল্লাহ। সুতরাং তোমরা কোথায় ফিরে যাবে? (সূরা আনআম : ৯৫)
মানুষ তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ করলে নিশ্চিতভাবে প্রত্যক্ষ করবে, সৃষ্টিজগতে সর্বত্র আল্লাহর অস্তিত্ব ও কুদরতের নিদর্শনাবলি বিস্তৃত হয়ে আছে। স্বয়ং মানুষের অস্তিত্বের মাঝেও তাঁর বিস্ময়কর কুদরতের নিদর্শনাবলি বিদ্যমান।

মানুষ কি ভেবে দেখে না তার এ সুন্দর আকার আকৃতি মাতৃগর্ভে কে তৈরি করেছেন? কে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন চোখ-কান সৃষ্টি করেছেন? কে স্বাদ আস্বাদনকারী জিহ্বা ও ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন নাক তৈরি করেছেন? কে তাকে চিন্তা ও বাকশক্তি দান করেছেন? কে সৃষ্টি করেছেন তার জন্য মাতৃস্তনে দুধের স্রোতধারা? কার করায়ত্তে তার সুস্থতা-অসুস্থতা? কে তার জীবন-মৃত্যুর মহানিয়ন্তা? প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তার বিবেক বলতে বাধ্য হবে, সবই সৃষ্টি করেছেন সেই মহানসত্তা, যিনি অদৃশ্যমান, মহাপ্রজ্ঞাময়, অসীম শক্তি ও ক্ষমতার আধার, মহাপরাক্রমশালী।
তিনিই আল্লাহ। বিশ্বাসীদের বিবেকের কাছে এ প্রশ্ন রেখে কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে- আর বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে আমার নিদর্শনাবলি এবং স্বয়ং তোমাদের মাঝেও। সুতরাং তোমরা কি অনুধাবন করবে না? আকাশে বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে তোমাদের জীবনোপকরণ ও তোমাদেরকে যা কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। (সূরা যারিয়াত : ২০-২১)
আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে তাঁর অস্তিত্ব ও কুদরত প্রমাণে দার্শনিক ও যুক্তিতর্কের ভাষা অবতারণার পরিবর্তে সচরাচর ও দৃশ্যমান বস্তুগুলোর দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন, যেন মানুষ এসব দৃষ্টান্ত নিয়ে চিন্তা করে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব ও কুদরতের প্রমাণ খুঁজে পায়। ইরশাদ হয়েছে- তুমি কি দেখছ না, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং আমি তা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উৎপন্ন করি। আর পাহাড়গুলোর মধ্যেও আছে বিচিত্র বর্ণের অংশ- শুভ্র, লাল ও নিকষ কালো। অনুরূপভাবে রয়েছে বিচিত্র রঙের মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও গৃহপালিত পশু। আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে যারা জ্ঞানী তারাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল। (সূরা ফাতির : ২৭-২৮)

লেখক : খতিব, খিলগাঁও গভ. স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ, খিলগাঁও, ঢাকা

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram