নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর জেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্র ও জনতার সাথে মতবিনিময়কালে কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা বলেন, আমাদের শিক্ষা খাতে সংস্কার করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেজুরভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকদের মধ্যকার রাজনীতি দূর করতে এই সরকার কাজ করছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালু করা হবে। পড়াশুনা করে চাকরির পিছনে না দৌড়িয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান করেন তারা।
গতকাল রোববার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরম্নমে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা এ কথা বলেন। সভায় মতবিনিময় করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ১০ জন সমন্বয়ক।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত, দেশাত¥বোধক গান, স্বরচিত গানের পরে আলোচনা শুরম্ন হয়। এসময় স্বাগত বক্তব্য দেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের অন্যতম সমন্বয়ক ইমরান খান, মারম্নফ হাসান ও আব্দুলস্নাহ আল লাইস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আকরাম হুসাইন ও যশোরের সমন্বয়ক সোহানুর রহমান সোহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ উজ্জামান, আশরেফা খাতুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বকর খান, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ফারিন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মুইনুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজিৎ দত্ত, এনইউবি’র তৌহিদ ইসলাম শুভ, ডিআইইউ’ বাবু খান, বদরম্নন্নেসা কলেজের জান্নাত। এছাড়া জেলা ও উপজেলার সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র জনতার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ১০ কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক। প্রশ্ন উত্তরে সমন্বয়করা বলেন, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিনিধি নির্বাচন করছি। এই প্রতিনিধিরা অনিয়ম করলে আপনারা সেটি তুলে ধরতে পারেন। নির্বাচিত সরকার আসার আগে আমরা দেশের সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। দেশ সংস্কারের পর আমরা পুনরায় পড়ার টেবিলে ফিরে যাবো। আমাদের ভিতরে মিশে থাকা ফ্যাসিবাদি সরকারের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। সমন্বয়ক মানে আলাদা কিছু না। আমরাও আপনাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থী।
সমন্বয়করা আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদী কাঠামো দূর করা। আমরা ফ্যাসিবাদির পতন চেয়েছিলাম, ব্যক্তি শেখ হাসিনার পতন না। গত ৫ আগস্টের পর নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। তাদের উৎখাত করা পর্যšত্ম আমরা রাজপথে থাকবো। আলেমরা চাইলে রাজনীতিতে আসতে পারেন। শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগে জুলাই বিপস্নবে গণহত্যার বিচার করবে সরকার। পরে ধারাবাহিক ভাবে সকল হত্যা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার করা হবে।
শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা বলেন, সামনে হয়ত নতুন একটা রাজনৈতিক সংগঠন আসবে। তবে সেটি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে না। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে। এই সরকার অবশ্যই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছে।