২রা ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
মিধিলি : শুটকিপল্লীর ব্যাপক ক্ষতি
বার পঠিত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: ঘূণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে বাগেরহাটের শরণখোলায় ফসলের ক্ষেত ও দুবলার চরের শুঁটকি পল¬ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষেতের ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ৫০০ হেক্টর আমন ধান, সাড়ে ৪০০ হেক্টর খেসারি ডাল (কলাই) ক্ষেত এবং ৩০ হেক্টর শীতকালীন সবজি । আর দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কুইন্টাল মাছ। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলায় ফসলের ক্ষেতের ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ৫০০ হেক্টর আমন ধান, সাড়ে ৪০০ হেক্টর খেসারি ডাল (কলাই) ক্ষেত এবং ৩০ হেক্টর শীতকালিন সবজির নষ্ট হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন : অসময়ের শিমে খুশি নেংগুড়াহাটের চাষিরা

এবার উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৯হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক ফসলে পাক ধরেছে। ধান গাছের মাথা ভারী হওয়ায় ঝড়ে তুলনামূলক বড় মাঠের পাকা ও কাঁচা ধানগাছ হেলে মাটিতে মিশে গেছে। মাঠের পানি স্থায়ী হলে গেলে পাকা ধান পচে যাবে। কাঁচা ধান চিটা হওয়ার আশঙ্কা। কলাই সম্পূর্ণই পচে গেছে। সাউথালী ইউনিয়নের চাষি উকিল সাধু, মালেক পহলান, মিজানুর রহমান জানান, তাদের প্রত্যেকেরই দুই—তিন বিঘা জমির কাচা ও পাকা ধান ঝড়ে মাটিতে মিশে গেছে। মাঠে পানি থাকায় পাকা ধানে পচন ধরেছে। সাথী ফসল হিসেবে ধানের ক্ষেতে খেসারি বুনেছিলেন তারা। তার সবই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে তাদের এককে জনের ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শরণখোলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোস্তফা মশিউল আলম বলেন, মাঠের পানি নেমে গেলে ক্ষতি অনেকটা কম হবে। ফসল রক্ষায় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে চাষিদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে আমি সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছি। মাঠের পানি দ্রুত যাতে নেমে যায় সে জন্যে বেড়িবাঁধের সব ¯¬ুইস গেট খুলে দেয়া হয়েছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া পাকা ধান কিছুটা রক্ষা করা গেলেও কাঁচা ধান সবই চিটা হয়ে যাবে। খেসারি সম্পূর্ণই পচে গেছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে দুবলার চরের শুঁটকি পল¬ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কুইন্টাল মাছ। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শনিবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ঝড়ের তাণ্ডবে ৫শতাধিক জেলেঘর, ২ শতাধিক শুঁটকি সংরক্ষণের ঘর ও আলোরকোলের শতাধিক দোকানির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামাল মিলিয়ে আরও ক্ষতি হয়েছে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার। ফলে মৌসুমের শুরুতেই অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, শনিবার সকালে শুঁটকি উৎপাদনকারী মাঝের কিল¬া, আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া, শ্যালার চরসহ চারটি চর পরিদর্শন করেছি। সব চরেই ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাঁচা, চাতাল ও আড়ায় থাকা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কুইন্টাল মাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ঢেকে রাখা আংশিক শুকনা মাছে পানি লেগে পোকায় ধরেছে। এদিয়ে আর শুঁটকি হবে না।

মো. খলিলুর রহমান বলেন, মৌসুমের প্রথম ঝড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে শুঁটকি পল¬ীতে। কাঁচা মাছ, শুঁটকি ও অন্যান্য মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার। নষ্ট হওয়া মাছ থেকে যে পরিমান শুঁটকি
পাওয়া যেতো তাতে সরকারের রাজস্ব আয় হতো প্রায় সাড়ে ৮৭ লাখ টাকা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
Fri Sat Sun Mon Tue Wed Thu
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram