২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
মহাসিন হত্যাকাণ্ডে লিখনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুদের টাকা আদায় নিয়ে বিবাদের জের ধরে প্রাণ দিতে হয়েছে মহাসিনকে। ‘হত্যাকাণ্ডে’ জড়িত মেহেদী হাসান লিখনকে গ্রেফতারের পর হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। গ্রেফতার লিখন যশোর সদর উপজেলার নূরপুর গ্রামের মৃত আকবর হোসেনের ছেলে। শনিবার রাতে তাকে আটকের পর উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত ট্যাঙ্ক বাক্স, মহাসিনের মোবাইল ফোন ও জুতা।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন মহাসিনের ভাই কোরবান আলী। এর আগে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে যশোর শহরতলীর বালিয়াডাঙ্গা মানদিয়া জামে মসজিদের পেছন থেকে নুরপুর গ্রামের মছি মন্ডলের ছেলে নিহত মহাসিনের (৪২) অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

<<আরও পড়তে পারেন>> ন'পাড়ায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, চড়া সুদের টাকা দিতে না পারায় গালিগালাজ করেছিলো মহাসিন। সেই রাগে অফিসের মধ্যেই ল্যাপটপের চার্জারের তার দিয়ে প্রথমে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে মেহেদী হাসান লিখন। এরপর মরদেহ ভরা হয় একটি ট্যাঙ্ক বাক্সে।

সেই বাক্সভর্তি লাশ নুরপুর থেকে প্রথমে ইজিবাইকে ও পরে ভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয় ফতেপুরের মান্দিয়া গ্রামে। যাওয়ার পথে তেলপাম্প থেকে কেনা হয় ডিজেল। আর সেখানে নিয়ে ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয় মহাসিনের মরদেহ। ডিবির জালে আটকের পর এসব কথা জানিয়েছেন নুরপুরের মহাসিনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত মেহেদী হাসান লিখন।

ডিবির ওসি রুপন কুমার সরকার আরও বলেন, আটক লিখন ওই এলাকায় ঈগল হাই ফোর্স এন্ড লজিস্টিক সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি পরিচালনা করেন। এ ব্যবসার কাজে চড়া সুদে মহাসিনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন লিখন। প্রতি সপ্তাহে তাকে দিতে হতো ৩০ হাজার টাকা লাভ। বৃহস্পতিবার রাতে লিখনের সুদের সেই টাকা দেয়ার কথা ছিলো মহাসিনকে। বিকেলে ওই টাকা নিতে অফিসে যান মহাসিন।

কিন্তু টাকা দিতে না পারায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মহাসিন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে থাকা ল্যাপটপের ক্যাবেল দিয়ে শ^াসরোধ করে প্রথমে হত্যা করে মহাসিনকে। পরে লাশ নিয়ে যায় ফতেপুরের আদর্শপাড়া মসজিদের পাশে। পরে সুযোগ বুঝে মহাসিনের শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে চলে আসে।

ডিবি আরও জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তারা সংগ্রহ করেন। এরপর মহাসিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন শনাক্ত করে ফোন উদ্ধার করা হয় লিখনের কাছ থেকে। লিখনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ধীরে ধীরে সব স্বীকার করেন।

রোববার সকালে ডিবির এসআই শামীম হোসেন ও এসআই খান মাইদুল ইসলাম লিখনকে নিয়ে নুরপুরের তার সেই অফিসে যান। যেখানে মহাসিনকে হত্যা করা হয়েছিলো নিজ মুখে তার বর্ণনা দেন লিখন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ফঁুসে উঠে। লিখনের ফাঁসির দাবিতে শে¬াগান দিতে থাকে সবাই।

অন্যদিকে, মহাসিনের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে লিখনকে নিয়ে যাওয়া হয় ফতেপুরের মান্দিয়া গ্রামে কিভাবে মহাসিনকে পুড়িয়ে দিয়েছিলো সে কাহিনীও নিজ মুখে স্বীকার করেন লিখন। এছাড়া যে ট্যাঙ্ক বাক্সে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো সে বাক্সটিও পালবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে ডিবির টিম। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে লিখন আদালতে এ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram