২৩শে এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ভোট জালিয়াতিতে নিজেও জড়িত ছিলেন রাওয়ালপিন্ডি কমিশনার : পদত্যাগ

সমাজের কথা ডেস্ক : পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে— এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাওয়ালপিন্ডি বিভাগের কমিশনার লিয়াকত আলী চাথা পদত্যাগ করেছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাওয়ালপিন্ডি শহরে ভোট জালিয়াতিতে তিনি নিজে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন। সেই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, প্রধান বিচারপতিসহ অন্যদের জড়িত থাকার কথাও জানান। শনিবার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের কথা জানানোর পাশাপাশি জড়িত সবার বিচার চেয়েছেন লিয়াকত আলী। তবে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ও পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিয়াকত আলী চাথা দাবি করেন, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৩ জন প্রার্থীকে জোর করে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ৭০—৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন— আমরা এমন প্রার্থীকে ভোট বেশি দেখিয়ে জয়ী করেছি। আমি রওয়ালপিন্ডি বিভাগে অবিচার করেছি। আজ (শনিবার) ফজরের নামাজের পর আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলাম। পরে চিন্তা করলাম, আমি কেন মহাপাপের মৃত্যুকে বরণ করে নেব? কেন আমি সব কিছু মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেব না? রাওয়ালপিন্ডিতে ভোট জালিয়াতির দায়দায়িত্ব আমি মেনে নিচ্ছি এবং নিজেকে পুলিশে সোপর্দ করছি। আমার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসিপির জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তারও শাস্তি হওয়া উচিত। এদিকে রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ প্রথমে চাথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানালেও পরে জানায় যে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

লিয়াকত আলী চাথার এমন দাবির পর ইসিপি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লিয়াকত আলী নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা নন এবং নির্বাচনের বড় কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করবে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি (সিজেপি) কাজী ফয়েজ ইসাও নির্বাচনে কারচুপির সঙ্গে তার জড়িত থাকার বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে লিয়াকত আলী চাথার কাছে প্রমাণ চেয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভি।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক—ই—ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চসংখ্যক ৯২টি আসন পেয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ—নওয়াজ (পিএমএল—এন) ৭৯টি ও বিলাওয়াল জারদারি ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে। কিন্তু পিটিআইর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে জোট গড়তে হবে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি অথবা নির্বাচনের দিন থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে।

এদিকে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে পিএমএল—এন ও পিপিপির মধ্যে সমঝোতা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন পিএমএল—এনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা খাজা সাদ রফিক ও তার সহযোগীরা বলছেন, এখন সরকার গঠন মানে স্বেচ্ছায় মাথায় কাঁটার মুকুট পরা। পিটিআই যেহেতু সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তাই তাদেরই উচিত পিপিপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করা।

এর আগে গত শুক্রবার লাহোরে পিএমএল—এনের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শেহবাজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজ, ইসহাক দার, মরিয়ম আওরঙ্গজেব, খাজা সাদ রফিক, আজম নাজির তারার, আয়াজ সিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। সেই বৈঠকে খাজা সাদ রফিকসহ কয়েকজন নেতা বলেন, পিএমএল—এনের উচিত কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের পরিবর্তে পাঞ্জাব প্রাদেশিক আইনসভায় সরকার গঠনের প্রতি মনোযোগী হওয়া। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিলে দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে এ মতের বিরোধিতা করেননি শেহবাজ শরিফ ও মরিয়ম আওরঙ্গজেব। পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইসাক দার জানিয়েছেন, পাঞ্জাবে প্রাদেশিক সরকার গঠনের জন্য পিএমএল—এন ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে শুক্রবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে পিএমএল—এনের জ্যেষ্ঠ নেতা আহসান ইকবাল বলেন, দেশকে স্থিতিশীল করতে পিএমএল—এন জোট সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দলের নীতির সঙ্গে আপস না করেই।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান জানিয়েছেন, তার দল আরেকবার ক্ষমতায় এলে তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেবেন না। বরং সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে পাকিস্তানের উন্নতির জন্য কাজ করবেন। গত শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে যান পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা আলী মুহাম্মদ খান। ওই সময় তাকে এ কথা জানান ইমরান খান।

আলী মুহাম্মদ খান আরও জানিয়েছেন, ইমরান খান তাকে বলেছেন, পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে হলে একটি ন্যায় ও সমন্বয়সাধন কমিটি গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পৃথক তিনটি মামলায় ইমরান খানকে কিছুদিন আগে ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসব কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছেন তিনি। গত শুক্রবার পিটিআইর এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইমরানের আইনজীবী লতিফ খোসা বলেন, গোপন তারবার্তা ফাঁস (সাইফার) এবং তোশাখানা দুর্নীতি মামলার কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং অনৈসলামিক বিয়ের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি বিচারিক আদালতে আপিল করা হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram