৩রা মার্চ ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিশ্বব্যাপী চলমান সহিংসতা ও শরণার্থী সংকট
9 বার পঠিত

ইউক্রেন—রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। সংস্থাটির মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। এই সংঘাতপূর্ণ সংকটের মধ্যে গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরাইলে হামাসের অতর্কিত নজিরবিহীন হামলার পর প্রতিশোধ নিতে ওইদিন থেকেই গাজায় তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। সেইসঙ্গে গাজায় পানি, খাবার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

ফলে সেখানকার ফিলিস্তিনিরা তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছে। জল, স্থল ও আকাশপথে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটির বাসিন্দারা এর আগে কখনো এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখেননি। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডবি¬উএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় জাতিসংঘের ৪৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে যে, গাজার ১৫ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তাদের স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় ইতোমধ্যে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন যে, নতুন করে আর কাউকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় এসব স্থাপনার কাছাকাছি রাস্তাতেই বাধ্য হয়ে অনেক মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। অল্প জায়গায় এত মানুষ গাদাগাদি করে থাকায় গুরুতর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এবং সবাইকে সেবা দেওয়া রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ। ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সঠিকভাবে লক্ষ্য করেন যে, এটি বর্তমান বিশ্বের গুরুতর সংকটের একটি। এছাড়া মিয়ানমার থেকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।

শান্তি ও নিরাপত্তা যখন বিঘ্নিত হয় তখন মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় অথবা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নৃশংস যুদ্ধবিগ্রহ কিংবা সংঘাতই এ বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ। গত কয়েক সপ্তাহের সহিংসতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুদ্ধের মৌলিক নিয়ম যেমন— আন্তর্জাতিক মানবিক আইন উপেক্ষা করা ক্রমবর্ধমানভাবে আদর্শ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামাসের হামলা এবং ইসরাইলি সামরিক অভিযানে নিহত নিরপরাধ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সংখ্যা নজিরবিহীন। গাজা উপত্যকার অবকাঠামোর উলে¬খযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও আলোচনার কমতি নেই।

এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের নেতৃত্বে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্দশা কমাতে সক্ষম এমন কোনো বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ নেই। ইউএনআরডবি¬উএর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনির মন্তব্যের দিকেও মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়, যিনি বিদ্যমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পৃথিবীতে নরক বলে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তা হচ্ছে— মানবিক যুদ্ধবিরতি এবং গাজার অভ্যন্তরে মানবিক সহায়তার উলে¬খযোগ্য সরবরাহ, যা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং প্রাণহানির চলমান চক্র হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ মুহূর্তে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে জাতিসংঘের কার্যকারিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনা করা অপরিহার্য। পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈশ্বিক জটিলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অত্যধিক রাজনৈতিক সংঘাত এড়ানোর জন্য সনদ পরিবর্তন করা উচিত কি—না তা নিয়ে চিন্তা—ভাবনা রয়েছে।

প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে সনদের শব্দগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা সপরাজিত হওয়া এবং দায়—দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতিসংঘকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করতে ভেটো বিলুপ্তির কথা প্রাধান্য পায়। কারণ ভেটো শুধু নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকেই প্রভাবিত করে না, জাতিসংঘের সব কাজকেও প্রভাবিত করে, যার মধ্যে রয়েছে মহাসচিবের পদে কে বসবে সেই বিষয়টিও। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক কৌশলগত বিশে¬ষক বেশ কিছুদিন ধরে একই রকম মন্তব্য করে আসছেন। ভেটো অগণতান্ত্রিক, অযৌক্তিক এবং জাতিসংঘের সার্বভৌম সমতার নীতির প্রকৃত চেতনার পরিপন্থি।

সবার পর্যবেক্ষণে বারবার উচ্চারিত হয়েছে যে, ভেটো ক্ষমতার একটি নেতিবাচক দিক এবং এটি বিলুপ্ত করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত দিকগুলোর সংস্কার হওয়া উচিত বলে দাবি করে আসছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি উপলব্ধি করে যে, তারা একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে এবং বহুপক্ষীয়তাকে সমর্থন করার জন্য অবশ্যই সঠিক পথ বেছে নিতে হবে। এতে প্রত্যেকেই পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ থেকে উপকৃত হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ অনেকেই বলেছেন, যুদ্ধ এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো ইসরাইলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই সংঘাতের অবসান না হলে দুই দিকের আরও অনেক প্রজন্ম যুদ্ধের মুখোমুখি হবে এমন আশঙ্কাই থেকে যায় ।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram