২২শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বড় ভাইয়ের ৩০ বছর পর হত্যার শিকার ছোট ভাই
বড় ভাইয়ের ৩০ বছর পর হত্যার শিকার ছোট ভাই
59 বার পঠিত

নড়াইল ও লোহাগড়া প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মলিস্নকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিকদার মো¯ত্মফা কামাল (৪৫) কে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। শুক্রবার(১০ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুন্দসী গ্রামে সমির সিকদারের বাড়ির পাশে সাবেক চেয়ারম্যান হামলার শিকার হন। সিকদার মো¯ত্মফা কামাল লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে শিকদার মোস্তফা কামাল হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আকবর হোসেন লিপন ও তার ভাই শিপন। তাদের সহযোগীদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তারা। পুলিশ বলছে, এ হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মলিস্নকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরম্ন সিকদার ১৯৯৪ সালের ৯ মে দিবাগত রাতে কুন্দসী-মঙ্গলহাটা সড়কে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন। ভাইয়ের শূন্য চেয়ার পুরণ করেন ছোট ভাই সিকদার মো¯ত্মফা কামাল। তিনিও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শুক্রবার রাতে ভাইয়ের মত তিনিও দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে সমির সিকদারের বাড়িতে মেয়েলী সংক্রাšত্ম এক ঘটনায় শালিস বৈঠক হবার কথা ছিলো। শালিসে অংশ নিতে সাবেক চেয়ারম্যান ওই বাড়িতে মোটরসাইকেলে যান। রা¯ত্মার পাশে মোটরসাইকেল রেখে তিনি ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। একটু পরে শালিস থেকে বেরিয়ে নিজ মোটরসাইকেল বাড়ির ভেতর নিতে মোটরসাইকেলের কাছে গেলেই পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা সিকদার মো¯ত্মফা কামাল কে উদ্দেশ্য করে গুলি বর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে শালিসের লোকজন রা¯ত্মার পাশে ছুঁটে আসলে সাবেক চেয়ারম্যানকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। তারা তাকে উদ্ধার করে দ্রম্নত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নেন। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। কিন্তু পথিমধ্যেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল মল্লিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গলহাটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবার চোখেমুখে ভীতি আর আতঙ্কের ছাপ। কেউ কিছু বলতে চাইছেন না। নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চষ্টো করেও সম্ভব হয়নি। আধিপত্য নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হয়েছেন শিকদার মোস্তফা কামাল এমনটাই দাবি স্বজনদের।

নিহতের বড় ভাবি রুনা লায়লা ওরফে দেলচি বেগম বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার বিরোধে আকবর হোসেন লিপন মেম্বার (সাবেক ইউপি সদস্য) ও তার ভাই শিপনসহ তাদের সহযোগীরা আমার দেবরকে হত্যা করেছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।'
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে মল্লিকপুর ইউনিয়ন থেকে শিকদার মোস্তফা কামাল ও আকবর হোসেন লিপন দুজনই নির্বাচন করে পরাজিত হন। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা। দুজন পরাজিত হলেও লিপন মেম্বার মোস্তফার চেয়ে বেশি ভোট পান। তখন থেকে বিরোধ আরও জোরালো হয়। এর আগে মোস্তফা কামাল এই ইউনিয়নে দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

উভয় পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে মঙ্গলহাটা গ্রামের মধ্যপাড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে লিপন মেম্বারকে গুরুতর আহত করে। এতে তার কবজি ও কনুইের মাঝ থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোস্তফা কামাল প্রধান আসামি ছিলেন।
এদিকে শনিবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তাকে নিজ বাড়ি মঙ্গলহাটায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হত্যা মামলা হয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে পিবিআই।
এ বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য আকবর হোসেন লিপনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার লোকজন এলাকায় নেই।
এদিকে মোস্তফা কামালের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই নিহত চেয়ারম্যানের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ লিপন সমর্থক ফয়সাল শেখ ও পলাশ মোল্যাকে শটগান দিয়ে গুলি করে আহত করে। তাদেরকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহা. মেহেদী হাসান বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার পেছনের কারণ তদন্ত করছি আমরা।
লোহাগড়া থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে চষ্টো চলছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram