১৮ই এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পর্দা কাঁপানো নায়িকা এখন বাস করেন বেদে পল্লীতে
37 বার পঠিত

সমাজের কথা ডেস্ক : চিত্রনায়িকা বনশ্রীর। নব্বইয়ের দশকে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ঢাকাই সিনেমাতে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘মহা ভূমিকম্প’। এই সিনেমায় দুই নায়ক মান্না ও আমিন খানের বিপরীতে অভিনয় করেন বনশ্রী। সে সময় আরও অনেক নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। বিস্ময়কর হলেও এটাই সত্যি, এক সময়ের পর্দা কাঁপানো সেই নায়িকা এখন বেদে পল্লীতে, বাস করেন সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে।

শিবচরের মাদবরের চর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের টি—২৯ নম্বর ঘরে থাকেন বনশ্রী।

চিত্রনায়িকা বনশ্রী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। একসময় যুক্ত হন উদীচী গণসাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে। তিনি ভালো গান করতেন। অভিনয় শেখার জন্য যোগ দেন সুবচন নাট্য সংসদে। নিয়মিত আবৃত্তি করেছেন বিটিভির স্পন্দন অনুষ্ঠানে। পরে সিনেমায় যুক্ত হন। তিনি কাজ করেছেন প্রায় দশটি সিনেমায়। যদিও তার মধ্যে তিনটি ছবি আলোর মুখ দেখে। একসময় ঝামেলায় পড়ে বাদ দিতে হয়েছে সিনেমা জগৎ। চিত্রজগৎ ছেড়ে দেওয়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে কিছুদিন ঢাকার শাহবাগের ফুল মার্কেটে ফুলের ব্যবসা করেছেন। বিভিন্ন বাসে করেছেন হকারি, বিক্রি করেছেন নামাজ শিক্ষার বইও।

আরও পড়তে পারেন : ‘এত ছোট পোশাক পরে রাস্তায় কে ঘোরে’

তীব্র অভাব—অনটনের মধ্যে জীবনের ঘানি টানতে না পেরে মহামারী করোনার পরে চলে আসেন নিজ উপজেলা শিবচরে। বর্তমানে বসবাস করছেন শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে, যেটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, তার দুই ছেলেমেয়ে। বড় মেয়েটি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন কিডন্যাপ হয়েছিল। এরপর মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে একেবারে বৃদ্ধের মতো হয়ে পড়েন।

তিনি আরও জানান, তার মেয়েকে কিডন্যাপ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সঙ্গীতার মালিক সেলিম খান তাকে মডেল বানিয়েছেন। এরপর তাকে আর ফেরত দেয়নি। মেয়েকে ফেরত পাওয়ার জন্য থানাপুলিশের আশ্রয় নিয়েও ফেরত পাননি।

তিনি বলেন, মেয়েটির বিষয়ে আমি প্রশাসনের কোনো সাহায্য পাইনি। আমার মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে এখন কিছুই জানি না।

এ চিত্রনায়িকা আরও বলেন, এখন কষ্ট করেই দিন যাচ্ছে। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক মিটিংয়ে যাই। ছেলেটা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, ওকে সময় দেই। আমি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করি। তবে করোনা আসার পর আর সেলাইয়ের কাজও পাই না।

তার দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়ান শেখ হাসিনার সরকার। বছর কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী তার হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকা। এতেও অভাব ঘোচেনি তার। স্থায়ী ঘর না থাকায় স্বস্তিতে ছিলেন না। সবশেষে ঠাঁই হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প ২—এর আওতায় শিবচর উপজেলার প্রত্যেকটি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের আওতায় থাকা বনশ্রী একসময় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যেটা আমরা জানতে পেরেছি।

ইচ্ছা থাকলেও এখন আর সিনেমায় কাজ সম্ভব নয় বলে আশা ত্যাগ করেন নব্বই দশকের এই নায়িকা। তিনি বলেন, সামনে গান করার ইচ্ছা আছে। গান তিনি ভালো গাইতে পারেন।

সবাই তাকে বনশ্রী নামে চিনলেও তার পুরো নাম সাহিনা সিকদার। মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে তার বাড়ি। বাবা মজনু শিকদার ওরফে মজিবুর রহমান শিকদার ও মাতা সবুরজানের (রিনা) দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রীই বড়। বাবা ঠিকাদারি করার কারণে সাত বছর বয়সেই শিবচর থেকে পাড়ি জমান রাজধানীতে। ইট—পাথরের নগরীতে এসে নাম লেখান সিনেমায়, জনপ্রিয়তাও পান। তবে সুখের সময়টা খুব বেশিদিনের ছিল না। একটা সময় সিনেমা থেকে সরে যান। এরপর দারিদে্র্যর কবলে পড়ে বাস করেন এক বস্তিতে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram