২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
দেশে তেলের খনি প্রাপ্তি আশাব্যঞ্জক
13 বার পঠিত

দেশে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি সুবিদিত। যে কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে জ্বালানি তেল—কয়লা—এলএনজি ইত্যাদি আমদানি করে মেটাতে হয় জ্বালানির অভ্যন্তরীণ চাহিদা। তাতেও সর্বদা সংস্থান ও সংকুলান করা সম্ভব হয় না। তদুপরি বর্তমানে দীর্ঘদিন থেকে চলমান রাশিয়া—ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিন ভূখণ্ড গাজা আক্রান্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা—অনিশ্চয়তা। এর ফলে, জ্বালানি তেল—কয়লা—এলএনজির বিশ^বাজারেও বিরাজমান চড়া মূল্যসহ অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। সে অবস্থায় সিলেটের ১০ নম্বর গ্যাসকূপের ৪টি স্তরের প্রথমটিতেই তেল প্রাপ্তির সংবাদটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

তেল ইতোমধ্যে উত্তোলন করাও সম্ভব হয়েছে। মানও ভালো বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তবে আরও চার—পাঁচ মাস পরে বিস্তারিত জরিপ ও পরীক্ষা—নিরীক্ষায় চূড়ান্ত হতে পারে বিষয়টি। একই কূপে অন্য তিনস্তরে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণের গ্যাস। এটিও একটি সুসংবাদ বৈকি— বিশেষ করে শীত মৌসুমে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের সময়ে। ভিন্ন ভিন্ন স্তরে তেল এবং গ্যাস পাওয়াকে আশাব্যঞ্জক বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রায় ৩৭ বছর আগে ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রথম খনিজ তেলের সন্ধান মেলে। তবে কয়েক বছরের মধ্যে কূপটি থেকে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন যখন জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছিল, তখন পেট্রোলিয়াম এক্সপে¬ারেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) নতুন করে অন্তত ২৯টি পরিত্যক্ত কূপে অনুসন্ধান তথা সংস্কার শুরু করে। পেট্রোবাংলার আরও ৪৬টি কূপ অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলো শেষ হবে ২০২৪ সাল নাগাদ। সে অবস্থায় একই কূপে তেল ও গ্যাস পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন অভিজ্ঞ মহল।

বর্তমানে দেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। তদুপরি এই চাহিদা বাড়ছে দিন দিন উন্নয়ন—অগ্রগতির সঙ্গে পাল¬া দিয়ে। প্রায়ই জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ে দেশ। রাজধানীতেই দফায় দফায় করতে হয় লোডশেডিং। গ্রামগঞ্জের দুরবস্থা সহজেই অনুমেয়। ইতোপূর্বে কক্সবাজার—টেকনাফ উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষতি মোকাবিলায় মাতারবাড়ির ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল গভীর সমুদ্রে। ফলে, মূল ভূখণ্ড বন্ধ ছিল এলএনজি বা তরলিকৃত গ্যাস সরবরাহ। গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ খুব কম। ফলে, রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও কূপ খনন করা হয়নি। দ্বীপ ভূখণ্ড ভোলায় সম্প্রতি গ্যাস পাওয়া গেলেও মূল ভূখণ্ডে আনা যাচ্ছে না। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে সিলিন্ডারে ভরে তরলীকৃত গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। অদূর ভবিষ্যতে সরাসরি পাইপলাইন বসানোর চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। তাহলে অন্তত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এমন আপৎকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করাও অত্যাবশ্যক। পরিবেশবান্ধব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে জোরেশোরে। সৌর বিদ্যুৎ—বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পও চলমান। সিলেটের সদ্য আবিষ্কৃত জ্বালানি তেল ও গ্যাস পূর্ণমাত্রায় উত্তোলন ও সরবরাহ করা সম্ভব হলে অনেকাংশেই নিশ্চিত হতে পারে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram