২৮শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তাপদাহে পিচ গলে যাওয়া সড়কে দুদক
তাপদাহে পিচ গলে যাওয়া সড়কে দুদক

যশোর-নড়াইল সড়ক নিয়ে সর্বপ্রথম সমাজের কথা’য় প্রতিবেদন প্রকাশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে তাপদাহে সড়কে পিচ গলে যাওয়ার কারণ এবং অনিয়ম অনুসন্ধানে তদšেত্ম নেমেছে দুদক। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের গলা পিচ পরীক্ষার পাশাপাশি সড়কের তাপমাত্রা পর্যবেড়্গণ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসময় সড়ক ও জনপদ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। এই সড়কের পিচ গলে যাওয়া নিয়ে সর্বপ্রথম ৫ এপ্রিল ‘সমাজের কথা’য় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র তাপদাহ। চলতি মৌসুমে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায় একমাস আগে থেকেই এ তাপদাহের কারণে গলতে শুরম্ন করে যশোর-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের পিচ। এ নিয়ে সমাজের কথাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

পরিবহন শ্রমিক, নেতাসহ সচেতন মহলের দাবি, দুর্নীতি করতে নি¤্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করায় পিচ গলে যাচ্ছে। এতে করে যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদšত্ম শুরম্ন করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে যশোর নড়াইল সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের গলা পিচ পরীক্ষার পাশাপাশি সড়কের তাপমাত্রাও পর্যবেড়্গণ করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

সড়ক পরিদর্শনকালে দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক চিরঞ্জন নিয়োগী, সহকারী পরিদর্শক সাফিউলস্নাহসহ সড়ক বিভাগের দুইজন সহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপপরিচালক আল আমিন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে যশোর নড়াইল সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের গলা পিচ পরীক্ষা করেছি। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত লিপিবদ্ধ করে আমরা প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবো। তদšেত্মর স্বার্থে আমরা এর বেশি বলতে পারছি না।’

সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, চার মাস আগে যশোর-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কে পাথর কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সরেজমিনে যশোর-নড়াইল সড়কের যশোর অংশের ঝুমঝুমপুর এলাকায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবারওও সড়কের পিচ গলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কে যান চলাচলের সময় পিচ চাকায় লেগে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও যানবাহনের চাকার দাগ বসে যাচ্ছে সড়কে। যশোর-নড়াইল সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, নি¤্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এই সড়ক সংস্কারের সময়। এ সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ জায়গার পিচ গলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে তাপদাহে সড়কের পিচ গলে যাওয়াতে নির্মাণ সংশিস্নষ্টদের দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নির্মাণ সংশিস্নষ্টদের নির্মাণ কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুদক ও সড়ক জনপদের কর্মকর্তাদের সামনে। মুরাদ হোসেন নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোদ গরমে দুপুর থেকে রা¯ত্মার পিচ গলতে শুরম্ন করে। দুপুর গড়ানোর পর রা¯ত্মার পিচ যেনো কাদায় পরিণত হয়। ফলে রিকশার চাকা রা¯ত্মায় আটকে যায়। এতে তাদের এক্সিডেন্টের ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি রা¯ত্মারও এবড়ো থেবড়ো হয়ে যাচ্ছে।’

নিরব হোসেন নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘যশোর নড়াইল মহাসড়ক নি¤্নমানের নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। যেভাবে নির্মাণ করছে, এতে ভোগাšিত্মতে পড়ছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা। সড়কে হেঁটে চললে জুতা পিচের সঙ্গে আটকে যাচ্ছে। এর দায় হচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের।’

আব্দুলস্নাহ আল মামুন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ‘সরকার সড়কের জন্যও সঠিক বরাদ্দ দিয়েছে। কিছু ঠিকাদার ও সরকারি কর্তকর্তাদের অনিয়ম দায়সারা কাজের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই রোদে সড়কের পিচ গলে যাচ্ছে। হেঁটে গেলে জুতার সোল আটকে যাচ্ছে। আমার বাইকের দুটো টায়ার নষ্ট হয়ে গেছে এই সড়কে। এতো নি¤্নমানের কাজ করেছে, যে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ। আমরা সুষ্ঠু তদšত্ম করে এসব সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের শাšিত্মর দাবি জানাচ্ছি।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা সাধারণত সড়কে যে পিচ ব্যবহার করেন তা ৬০-৭০ গ্রেডের। এর গলনাঙ্ক ৪৮ থেকে ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে এই পিচ গলার কথা। কিন্তু তার অনেক আগেই পিচ গলে যাচ্ছে।

সওজ সংশিস্নষ্ট সূত্র পিচ গলার কারণ হিসেবে বলেছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির নিচে থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে অনুভূতির পরিমাণ আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি হয়। সড়কের পিচের উপরে এই তাপমাত্রা আরও প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। আর কালো হওয়ায় এই পিচ সূর্যের তাপও শোষণ করে বেশি। এছাড়া সড়কে চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপাদিত তাপও এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পিচ গলে যেতে পারে। তবে এর বাইরে সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যশোর-নড়াইল সড়কের যেসব স্থানে বিটুমিনের পরিমাণ বেশি পড়েছে; গরমে সেখানে বিটুমিন গলে যাচ্ছে। এজন্য গলে যাওয়া স্থানগুলোতে বালি ও নুড়িপাথর দেওয়া হচ্ছে; যাতে গলে যাওয়া পিচ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। সড়কে নি¤্নমানের কোন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, দুদক তদšত্ম করছে। অনিয়ম হলে তাদের তদšেত্ম জানা যাবে।’

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram