২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
কিশোরী মা
31 বার পঠিত

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন এক জরিপ প্রতিবেদনে কিশোরীদের মা হওয়ার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটির নাম ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস—২০২২’। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোরীদের মধ্যেও উলে¬খযোগ্য সংখ্যক মা হন। ১৮ বছরের আগে কিশোরীদের বিয়ের হার ২০১৮ সালে ছিল ৩০ শতাংশ।

২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই সময়ে কিশোরী বিয়ের হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোরীদের বিয়ের হার ২০১৮ সালে ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে। শত বছর আগে দেশে বাল্যবিয়ের হার অনেক বেশি ছিল। সামাজিক চাপে তখন পনেরো—ষোলো বছর বয়সেই বহু কিশোরী মা হতেন।

আধুনিক বিজ্ঞানমতে ১৮ বছর বয়সের আগে একটি মেয়ে বিয়ের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হয় না। তার শরীর বিয়ে ও গর্ভধারণের জন্য তৈরিও হয় না। স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন ওবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি বলেছেন, কিশোর বয়সে গর্ভে সন্তান ধারণের মানে হলো ‘শিশুর গর্ভে শিশু’।

এটা মা ও শিশু কারও জন্যই ভালো নয়। এই বয়সে মা হলে প্রসবজনিত নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। দেখা দেয় অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ। বাধাগ্রস্ত প্রসব, অপরিণত শিশু প্রসব হয়। মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে বেশি। তাছাড়াও এই কিশোরী মায়েদের কোনো যত্নই পরিবারে হয় না।

কিশোরীদের মা হওয়া রোধে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা চাই। এজন্য অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। সেইসঙ্গে বদলাতে হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাল্যবিয়ের অভিশাপমুক্ত হতে হলে এর কুফলগুলো জনগণকে জানানো সঙ্গত। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানো আবশ্যক।

বর্তমানে তেমন সামাজিক চাপ নেই অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার। তবে গরিব পরিবারে ভরণ—পোষণের অপারগতা থেকে আগেভাগে বিয়ে দিয়ে মেয়েকে বিদায় করার প্রবণতা অস্বীকার করা যায় না। বাল্যবিয়ে রোধে নিবিড় মনিটরিং জরুরি। মেয়েশিশুর জন্য বিশেষ আর্থিক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দুস্থ পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচন করা গেলে কিশোরীদের মা হওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

বাল্যবিয়ে, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের বিষয়টি শুধু সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে রোধ করা যাবে না, সমাজের প্রত্যেকেরই এখানে ভূমিকা আছে। বাল্যবিয়ে ও কিশোরী বয়সে মা হওয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার মতো প্রজন্ম তৈরি করা যাবে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram