২১শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিলিস্তি রহমান
এমপি আনার হত্যা : শিলাস্তির দায় স্বীকার

সমাজের কথা ডেস্ক : ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্য অপহরণের মামলায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন শিলাস্তি রহমান।
সোমবার (৩ জুন) রিমান্ডে থাকা আসামি শিলাস্তি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত শিলাস্তির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে এ মামলায় শিলাস্তি রহমানসহ তিনজনের আট দিনের এবং ৩১ মে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অন্য দুই আসামি হলেন— শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ (৫৬) ও তানভীর ভূঁইয়া (৩০)।
গত ২২ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

মামলার অভিযোগে মুনতারিন ফেরদৌস ডরিন উল্লেখ করেছেন, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের বাসায় আমরা সপরিবারে বসবাস করি। ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা আনোয়ারুল আজিম আনার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাই।

১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। এতে লেখা ছিল, ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি রয়েছে। আমি অমিত সাহার কাজে নিউটাউন যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দেব।’ এছাড়া আরও কয়েকটি বার্তা আসে। ক্ষুদে বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজ করতে থাকি। কোনও সন্ধান না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও আমরা খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে বাবাকে অপহরণ করেছে।

নেপাল থেকে ‘কিলার সিয়াম’কে ফেরাতে তিন বাধা
বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি নেপালে আটক করা হয়েছে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত ‘কিলার’ সিয়াম হোসেনকে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী সিয়াম কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীভা গার্ডেনসের ফ্ল্যাটে আনারকে খুনের পর নেপালে গিয়ে আত¥গোপন করেন।
সিয়ামকে দেশে ফেরানোসহ আরও কিছু বিষয়ে তদন্ত করতে নেপাল গেছে পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

এদিকে সোমবার (৩ জুন) বাংলাদেশের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সিয়ামের বিরুদ্ধে। এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সিয়ামকে এই মুহূর্তে দেশে ফেরানো যাবে কি না। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই তাকে ফেরানো যাবে না।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, সিয়ামকে বাংলাদেশে ফেরাতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকা। এছাড়া আরও কিছু বাধা রয়েছে।

 

দশ সন্দেহভাজনের অ্যাকাউন্ট অনুসন্ধান করবে ডিবি
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার ও পলাতক দশ সন্দেহভাজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য গোয়েন্দা পুলিশকে সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গোয়েন্দা পুলিশের এক আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান এদিন দশ সন্দেহভাজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধানকে ওইসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহের আদেশ দেন।
ওই ১০ জন হলেন- শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুইঁয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভুঁইয়া, সেলেস্টি রহমান, সিয়াম হোসেন, আক্তারুজ্জামান শাহীন, মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়সাল আলী সাজি, তাজ মোহাম্মদ খান ওরফে হাজী, চেলসি চেরি ওরফে আরিয়া ও জামাল হোসেন।

ভিসা পেয়েছেন এমপি আজীমের মেয়ে ডরিন
ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন অবশেষে কলকাতা যাচ্ছেন। সোমবার (৩ জুন) ভিসা হাতে পেয়েছেন তিনি। কলকাতায় আজীমের দেহাংশ সন্দেহে যে মাংসপিণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে, এর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ডরিনকে কলকাতায় যেতে হচ্ছে। এতদিন ভিসা জটিলতায় তার যেতে দেরি হচ্ছিল।
সোমবার বিকালে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডরিন নিজেই। তবে কবে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন তা নিশ্চিত করেননি তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram