গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের ‘প্রধান’র তথ্য যশোর থেকে প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে রাজশাহী ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আন্তঃজেলা গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আটক মুনির ওরফে লিখন ওরফে কুদ্দুসের দেয়া তথ্য মতে যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ১৬ নম্বর বাড়ির গ্যারেজ থেকে একটি চোরাই প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্টো গ-১৯-৬৬৫৩) উদ্ধার করেছে রাজশাহী ডিবি পুলিশ। মুনির কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আদর্শপাড়ার গাদন মিস্ত্রি রোড এলাকার আলীমুদ্দিন ওরফে শামসুদ্দিনের ছেলে। গত ৪ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে র‌্যাবের হাতে আটকের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যশোরে চোরাই গাড়ির সন্ধান পায় রাজশাহী ডিবি পুলিশ।
রাজশাহী ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহীর একটি গাড়ি চুরি মামলায় মুনিরকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী নেয়া হয়। এর আগে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি মুনির আটক হয়েছে। সে এখনো পর্যন্ত দেশের গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের প্রধান। সারা বাংলাদেশে তার নেটওয়ার্ক আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি চুরি করে তার রেজিস্ট্রেশন, ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করে থাকে। গত ৪ জুলাই আটক হওয়ার পর রাজশাহীর একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় হঠাৎ করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বেজে উঠে। সে সময় পুলিশ ফোন রিসিভ করলে যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা জোয়ারদার সাজেদুর রহমান বলে পরিচয় দেন। পুলিশ মুনির পরিচয় দিয়ে সাজেদুর রহমানের সাথে কথা বলে। সে সময় সাজেদুর বলেন, মাস খানেক আগে একটি প্রাইভেটকার গ্যারেজে রেখে গেছেন। এখন ভাড়াও দিচ্ছেন না। গাড়িও নিচ্ছেন না। কবে নিবেন? পুলিশ তখন সন্দেহ করে সাজেদুরে রহমানের গ্যারেজে যে গাড়িটি রাখা হয়েছে সেটি চোরাই বলে সন্দেহ করে। জোর্য়াদার সাজেদুর রহমান যশোর জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রাজশাহী ডিবির ওসি আতাউর সে সময় যশোর পুলিশের মাধ্যমে সাজেদুরের গ্যারেজটি নজর দারিতে রাখেন। বুধবার তার নেতৃত্বে রাজশাহী ডিবি পুলিশের একটি টিম যশোরে আসেন।
ডিবির ওসি আতাউর রহমান আরো জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ সাজেদুর রহমানের বাড়ির নিচতলায় গাড়ির গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে থাকেন। মাস খানেক আগে মুনির ওই প্রাইভেটকারটি চুরি করে যশোরে এনে সাজেদুর রহমানের গ্যারেজে ভাড়া হিসাবে রাখেন। মঙ্গলবার প্রাইভেটকারটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেছেন, মুনিরের সাথে কথা বলে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, নাটোর, নওগাঁ এবং রাজবাড়ি থেকে ৫টি চোরাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসবাদ করলে আরো চোরাই গাড়ির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে মামলার সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। কারণ চোরাই গাড়ির মালিকরা এখন মুনিরকে আসামি করে মামলা দিচ্ছেন। তার এই সিন্ডিকেটে মোট ৮ জন সদস্য আছে। যারা সারাদেশে ছাড়িয়ে আছে। র‌্যাব চট্টগ্রাম থেকে মুনিরসহ তিনজনকে আটক করেছিল। তাদের সহযোগি অন্যদের আটকের জন্য চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জোয়ার্দার সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, গত ৪ জুন বিকেলে মুনির তার বাড়ির গ্যারেজে একটি প্রাাইভেটকার অনেক দিন রাখতে চায় বলে জানায়। তার গ্যারেজে আরো অনেক মানুষের গাড়ি রাখা হয়। মুনিরকে ফোন করলে খুব ব্যস্ত আছেন বলে জানান এবং এক মাসের ভাড়া দুই হাজার টাকা দিয়ে যান। তিনি নিজেকে পাথরের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। যশোরের শেখহাটিতে থাকেন। আদি বাড়ি চুয়াডাঙ্গা বলে জানা যায়। পরে মঙ্গলবার রাতে তার ফোনে কল করলে পুলিশ তার বাড়ির সন্ধান পায়।

SHARE