অস্ট্রেলিয়ার লড়াই সামলে ইংল্যান্ডের জয়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের এই যুগে নিরাপদ নয় কোনো স্কোরই। বড় রান তাড়ার সেই দক্ষতাকে গত তিন বছরে নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে একটি দিনের জন্য হলেও যেন অতীতে ফিরে যাওয়া। মাঝারি রান তাড়ায়ও ইংলিশদের ভোগান্তি। জমল লড়াই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় তাদেরই। লড়াই করেও পেরে উঠল না অস্ট্রেলিয়া।

৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ওভালে বুধবার অস্ট্রেলিয়া করতে পেরেছিল ২১৪ রান। স্টার্ক-হেইজেলউড-কামিন্স বিহীন পেস আক্রমণ লড়াই করেছে এই পুঁজি নিয়েও। তবে ইংলিশরা জিতেছে ৩ ওভার বাকি থাকতে।

বল টেম্পারিং বিতর্কে স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নাররা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সিরিজ। নতুন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে টিম পেইনের যাত্রা শুরুর সিরিজও এটি। শুরুটা বিবর্ণ হলো ব্যাটিং ব্যর্থতায়।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজনই ছুঁয়েছেন দু অঙ্ক। কিন্তু কেউ করতে পারেনি ২৫ রানও।

নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ানদের ভুগিয়েছে ডেভিড উইলির সুইং। প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে এসে অফ স্পিনার মইন আলি ভেঙে দেন ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদ-। একে একে তুলে নেন অ্যারন ফিঞ্চ, শন মার্শ ও পেইনকে।

মইনকেই ছক্কা মেরে পাল্টা আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। প্রথম ওভারেই তাকে ফেরান লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। ৯০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া।

বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তখন টিকে কেবল গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অনেক দিন ধরেই যিনি হারিয়ে খুঁজছিলেন নিজেকে। দলের বিপর্যয়ে অবশেষে পেলেন রানের দেখা। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন অ্যাশটন অ্যাগার।

শুরুতে রয়ে সয়ে খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ৩০ বলে রান ছিল ১৯। পরে মইনকে আক্রমণ করেই বের হন খোলস ছেড়ে। চার বলের মধ্যে মারেন দুটি চার, একটি ছক্কা। পরের ওভারে ছক্কায় ওড়ান জো রুটকে।

৫২ বলে ম্যাক্সওয়েল স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। দলকে বড় রানে নিতে হলে প্রয়োজন ছিল তার শেষ পর্যন্ত থাকা। সেটি পারেননি। লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলটি যদিও খুব ভালো ছিল না, কিন্তু স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ৬২ রানে।
এরপর অ্যাগার একটু লড়াই করেছেন। তাকে ৪০ রানে থামিয়েছেন আদিল রশিদ।

১০ ওভারে মাত্র একটি চার হজম করে ৩৬ রানে দ্ইু উইকেট নিয়েছেন রশিদ। মইনের উইকেট তিনটি। শেষ দিকে যথারীতি ভালো বল করা প্লাঙ্কেটের উইকেটও তিনটি।

ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ছন্দ পেলে এই রান এমন কিছু নয়। কিন্তু ভয়ঙ্কর টপ অর্ডারকে এদিন ডানা মেলতে দেয়নি অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বিলি স্ট্যানলেকের ৯০ মাইল গতির বলে বোল্ড জেসন রয়। তিনে নামা অ্যালেক্স হেলসকে ফেরান মাইকেল নেসের।

বড় বাধা হতে পারতেন জনি বেয়ারস্টো। টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে ছিলেন টানা চার সেঞ্চুরির রেকর্ডের আশায়। এদিনও শুরু করেছিলেন দারুণ। কিন্তু ২৩ বলে ২৮ রানে আউট হন কেন রিচার্ডসনের বলে।

ইংল্যান্ড তখন ৩ উইকেটে ৩৮। সেই ধাক্কা সামলে ইংলিশদের জয়ের দিকে নিয়ে যায় জো রুট ও ওয়েন মর্গ্যানের জুটি। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ১১৬ রানের জুটি।

১১ চারে ৬৯ রান করা মর্গ্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যান্ড্রু টাই। এই পেসার পরে ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক জস বাটলারকে। পুরোনো বলে আক্রমণে ফিরে স্ট্যানলেক শিকার করেন ফিফটি করা রুটকে। ম্যাচ জমে ওঠে আবারও।

কিন্তু লক্ষ্য ছোট ছিল বলে শেষ পর্যন্ত আটকায়নি ইংল্যান্ড। আটে নেমে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন উইলি। পরিস্থিতির বিচারে মইনের ১৭ বলে ১৭ রানের ইনিংসটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

৩ উইকেট নেওয়া পর সেই ইনিংসটি খেলে ম্যাচের সেরা মইন।

SHARE