ঈদে যশোরে মশলার বাজার চড়া

সালমান হাসান
উৎসব-আমুদে বাঙালির জীবনে ঈদ আসে বেশুমার আনন্দ নিয়ে। ঈদ মানে সাজগোজ, ঘোরাঘুরি আর আড্ডা-মস্তি। সাথে রসিক বাঙালির রসনাতৃপ্তি। উৎসবে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া করতে ভালোবাসে বাঙালি। তাই ঈদ এলেই সব বাড়িতেই ভালো খাবার রান্না হয়। রমজানের শেষ মুহূর্তে এসে চলছে এরই প্রস্তুতি। কিনছে মশলা। কারণ এই মশলায় মজাদার করে কোর্মা, পোলাও, বিরিয়ানি, কোপ্তা-কালিয়া। ফলে ঈদ সমাগত হচ্ছে, ততই চাহিদা আর দাম বাড়ছে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, আলুবোখারা, জয়ফল, জয়িত্রীর মতন মশলার।
গত কয়েকদিনে যশোর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ঈদুল ফিতরের বেশ আগেভাগেই তিনটি মশলার দাম বেশ খানিকটা বেড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গ। এদের মধ্যে এলাচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজিতে এলাচের দাম বেড়েছে ৪০০ টাকারও বেশি। এর পাশাপাশি দাম বেড়েছে লবঙ্গ ও দারুচিনির। লবঙ্গের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মতন। আর দারুচিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকার মত। তবে মশলার বাজারে দাম কমেছে কিসমিসের। এটির দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকার মতন কমেছে। প্রতি কেজি কিসমিস এখন ৩৮০ টাকায় বিক্রি চলছে।
জানা গেছে, প্রতি কেজি এলাচির দাম এখন এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। মানভেদে দামের এমনতর হেরফের বলে জানিয়েছেন মশলার কারবারিরা। বর্তমানে ভালো মানের বড় দানার এলাচির দাম দুই হাজার টাকা। কিন্তু মাস খানেক আগে এর কেজি প্রতি দাম ছিল এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। এদিকে প্রতি কেজি লবঙ্গ এখন এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগে এটির কেজি প্রতি বাজার দর ছিল ৯০০ টাকা থেকে হাজার টাকা। আর প্রতি কেজি দারুচিনির দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। রোজার শুরুর দিকে এর দাম ছিল প্রতি কেজি এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গোলমরিচ, জয়ফল, জয়িত্রী, জিরা, আলুবোখারা, ধনে ও তেজপাতা। প্রতি কেজি জিরার বাজার দর এখন ৩৫০ থেকে ৪১০ টাকার মধ্যে। বাজার জুড়ে বর্তমানে তুরস্ক, সিরিয়া ও ভারতের জিরা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে জিরার দামের এমন পার্থক্য বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। এদিকে, জয়ফলের দাম কেজি প্রতি ৮০০ টাকা, জয়িত্রী এক হাজার ৭০০ টাকা, আলুবোখারা ৪৫০ টাকা, ধনে ১০০ টাকা, তেজপাতা ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা ও গোলমরিচ ৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা।
যশোর শহরের হাটখোলা এলাকার মশলার দোকান সুজিত স্টোরের স্বত্বাধিকারীদের একজন সুজিত পাল জানান, দারুচিনি, এলাচি ও লবঙ্গের দাম খানিকটা বেড়েছে। তবে সেটি খুবই সামান্য। তবে পরিমাণে কেউ বেশি কিনলে দাম খানিকটা কমিয়ে ধরা হয়। এ দোকান থেকে মশলা কিনছিলেন তৌহিদুল আজিম নামে এক ক্রেতা। আলাপ করা হলে তিনি বলেন, সংসারে পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচের মতন মসলা যতটা লাগে, এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচের দরকার ততটা হয় না। তবে ঈদ এলে যেহেতু সব পরিবারেই ভালো খাবার রান্না হয়, সেহেতু সবাইকেই মসলা কিনতে হয়। শহরের রেলবাজারের শফিকুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে এবার এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গের দাম একটু বেশি। আর মানুষজন যেহেতু এসব মশলা ৫০ থেকে ১০০ গ্রামের বেশি কেউ কেনেন না, সেহেতু সামান্য দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেউ তেমন সমস্যায়ও পড়ছেন না।

SHARE