ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজ মসজিদ

মোহা. কামরুজ্জামান, বাগেরহাট॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাগেরহাটে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বরন করে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজ মসজিদ। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাইরে থেকে আশা হাজার হাজার পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তা ও পর্যটনস্পট গুলোতে অবাদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
এরইমধ্যে ঈদ উপলক্ষে সুন্দরবনে আশা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুন্দরবনের পর্যটনস্পট গুলোতে অবাদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিমিত করা হয়েছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বনরক্ষীদের ছুটি। আর ষাটগুম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রির্সোট সেন্টার, শহরের দশানী পার্ক ও শহরের দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্কসহ জেলার পর্যটনস্পট গুলোতে পর্যটকদের কছে আকর্ষণীয় করতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ষাটগুম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলীর মাজার এলাকাসহ বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রির্সোট সেন্টার, শহরের দশানী পার্ক ও শহরের দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্ককে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করতে বিভিন্ন আলোক শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাগেরহাট ষাটগুম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদৌস জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বিশ^ ঐতিহ্য ষাটগুম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ব্যাপক আগম ঘটে। ঈদের সময় জেলার বাইরে থেকে চোখে পড়ার মত দর্শানাথী এখানে ঘুরতে আসেন। এসময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ সদস্যসের একটি টিমসহ জেলা প্রতœতত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্কের ক্যান্টিনের এক অংশের মালিক রাজু আহমেদ জানান, ঈদে পৌর পার্কে ঘুরতে আসা ভ্রমন প্রিয় হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। ঈদে আমাদের বেচাকেনাও ভালো হয়। ঈদের ৩ দিন পর্যন্ত ঘুরতে আসা মানুষের আগমন অব্যহত থাকে। এছাড়া দড়াটানা নদীর পাড়ের দৃষ্টিন্দন দৃশ্য সব সময়ই দর্শনাথীদের আকর্ষন করে। যেকারণে শুধু ঈদে নয় সব সময়ই এখানে ভ্রমন পিপাষুদে ভীড় লেগে থাকে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে করমজলে দেশি-বিদেশী পর্যাটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঈদের দিন মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুড়তে আসে। ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থী বা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতি বছরের মত এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহামুদুল হাসান জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরন পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটনস্পট গুলোতে আগমন ঘটে হাজার হাজার পর্যটকদের। ম্যানগ্রোভ এই বনে বর্তমানে পর্যটন মৌসুম না হলেও ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, শরণখোলা রেঞ্জসহ সন্নিহিত বন লোকালয়ে ট্যুরিষ্ট স্পটগুলোতে আগত দেশী-বিদেশী ইকোট্যুরিষ্টদের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণিসহ বনজ সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেকারনে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারির ঈদের ছুটি সিমিত করা হয়েছে। একই সাথে সুন্দরবনে পরিচালিত আধুনিক প্রযুক্তি র্নিভর পাহারা ‘স্মার্ট প্রেট্রোলিং’ চলমান থাকবে।

SHARE