আলবিদা মাহে রমজান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আজ মাহে রমজানের ২৬তম রজনী। পবিত্র ও মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর। রমজানের লাইলাতুল কদর মুসলিম জীবনে এক অতি পুণ্যময় ও অনন্য রজনী। যে পাঁচটি রাতকে মহান আল্লাহপাক অফুরন্ত বরকত প্রদান করেছেন, তার মধ্যে লাইলাতুল কদর এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। বিশেষত এ রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে সূরা কদরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ রাতের ফযিলত ও মহাত্ম্য সম্বন্ধে হযরত সালমান হতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (স) শাবান মাসের সমাপনী দিবসে আমাদের নসিহত করেন এবং বলতেন, তোমাদের মাথার উপর এমন এক মর্যাদাশালী মোবারক মাস ছায়াপাত করেছে যার মাঝে রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’- মানে একটি রাত, যা হাজার মাস হতেও উত্তম। আজ দিনের অবসানে আমাদের সামনে সে মহিমান্বিত রজনী।
কোরান নাজিলের মহিমায় ভাস্বর এ রাত রমজানের শেষ দশকে অবস্থিত বলে এটা মাগফিরাত বা গুনাহ মাফের দশক হিসেবে বিঘোষিত হয়েছে। হযরত আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত বুখারী শরীফের হাদিস থেকে জানা যায় যে, হযরত রাসূলে মাকবুল (স) রমজানের শেষ দশকে শক্ত করে কাপড় বেঁধে রাতভর জেগে ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন এবং তার পরিবারকেও জাগাতেন। হযরত কা’ব (রা) থেকে বর্ণিত আছে, সপ্তম আকাশে জান্নাতের অদূরে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ নামক গাছের মাঝামাঝি হযরত জিব্রাইলের (আ) নিবাস। আবার উক্ত গাছের শাখা-প্রশাখায় বাস করেন অসংখ্য অগণিত ফেরেস্তা। মু’মিনদের প্রতি স্নেহপরায়ন এসব ফেরেস্তা জিব্রাইলের (আ) নেতৃত্বে এ রাতে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সুর্যাস্তের পরপরই পৃথিবীতে অবতরণ করেন; ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। কিন্তু মুশরিক, জাদুকর, নেশাখোর, জিনাকার, আত্মীয়ের প্রতি অনুদার প্রভৃতি খারাপ লোক এবং ময়লা আবর্জনাযুক্ত অপবিত্র স্থান থেকে দূরে থাকেন। পক্ষান্তরে মু’মীনদের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করে সারারাত দোয়া করতে থাকেন আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছাতে থাকেন ইবাদতে মশগুল সকল মু’মীনের কাছে।

SHARE