শরণখোলায় তালাক দেয়া স্ত্রীর মামলায় স্কুল শিক্ষক কারাগারে

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মালসা গ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে তালাকি স্ত্রীর সাথে সহবাসের অপরাধে নজরুল ইসলাম রুবেল নামের এক শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। প্রতারণার মাধ্যমে সহবাস করা ধর্ষণের সামিল দাবি করে তালাকি স্ত্রী মামলা করায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ১৩ মে শরণখোলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে পিরোজপুর জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। নজরুল ইসলাম রুবেল শরণখোলা উপজেলার ৭০নং মধ্য নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাদের নওশিন ইসলাম রথি নামের ৯ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
সাবেক স্ত্রী শাহিদা আক্তার হেলীর দায়ের করা মামলা সূত্রে জানাযায়, গত ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল শাহিদা আক্তার হেলীর সাথে শিক্ষক নজরুল ইসলাম রুবেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় নজরুল ইসলাম রুবেল স্ত্রী শাহিদা আক্তার হেলীর উপর অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকেন। এক সময় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০০৯ সালে শাহিদা আক্তার তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নজরুল ইসলাম রুবেলের দুই বছরের সাজা হলে তিনি শাহিদা আক্তার হেলীকে তালাক দেন। পরে তিনি সাবিনা ইয়াসমিন নামে একজনকে বিয়েও করেন। এরই মধ্যে রুবেল তার প্রথম স্ত্রী হেলীর সাথে মিমাংসার প্রস্তাব দিলে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হেলী প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এর মধ্যে রুবেল হেলীকে তার পিতার বাড়িতে রেখে স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করতে থাকেন। এ সময় এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে রুবেল হেলীকে বৈধ স্ত্রী এবং ভষ্যিতেও থাকবে বলে অঙ্গিকার করেন। পরবর্তিতে রুবেল হেলীকে সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা নিস্পত্তি করে এবং হেলীর সাথে তার পিত্রালয়সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করতে থাকেন। এর মধ্যে গত জানুয়ারি রুবেল মোবাইল ফোনে হেলীকে জানান, তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই এবং গত ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট তাকে তালাক দিয়েছেন। পরে শাহিদা আক্তার হেলী তালাক দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ ও সহবাসের অভিযোগ এনে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৪, তারিখ-১২/০৫/২০১৮ ইং।

SHARE