পাইকগাছায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ॥ অধিক লাভের আশা করছেন চাষীরা

মোঃ আব্দুল আজিজ (পাইকগাছা) খুলনা॥ পাইকগাছায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে এবার পানের আবাদ হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি দাম পাওয়ায় পান চাষীরা অধিক লাভের আশা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রমতে, উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে পানের বরজ রয়েছে। যার মধ্যে রাড়–লীতে ৯০ হেক্টর, হরিঢালীতে ৫০ হেক্টর, কপিলমুনিতে ৪২ হেক্টর ও গদাইপুর ইউনিয়নে ৩ হেক্টর। এই এলাকা পান চাষের জন্য সমৃদ্ধ হওয়ায় পান চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ বাদ দিয়ে অনেকেই পান চাষে এগিয়ে এসেছেন। ফলে প্রতিবছর আবাদের পরিমান ও পান চাষীর সংখ্যা বাড়ছে। পানের দাম এ বছর অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে রেকর্ড পরিমান বেড়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর পান চাষীরা অধিক লাভের আশা করছেন। রাড়–লী ইউনিয়নের কাটিপাড়া গ্রামের লক্ষণ দাশ জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর যাবৎ পান চাষ করছেন। বর্তমানে ২ বিঘা জমিতে পানের বরজ রয়েছে। পান চাষের মাধ্যমে সংসারের যাবতীয় খরচ সহ ৪টি সন্তানের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন।
বড় মেয়ে অনার্স, মেঝ মেয়ে এইচএসসি, সেঝো মেয়ে দশম শ্রেণি ও ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। এদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগান দিয়েও পান চাষ করে তিনি প্রতিবছর অনেক টাকা সঞ্চয় করেন। এ কাজে পরিবারের সবাই তাকে সহযোগিতা করেন। বিগত বছর যে পানের পোন ৫০ টাকা বিক্রি হতো এ বছর তা ২শ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। উৎপাদিত পান কপিলমুনি, পাটকেলঘাটা ও ঢাকায় পাইকারী বিক্রি করি। এ বছর দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি লাভ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। লক্ষণ দাশের মেয়ে পূজা দাশ ও পিয়ালী দাশ জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা বাবা-মায়ের সাথে পানের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত প্রক্রীয়া পর্যন্ত সহযোগিতা করি। উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানায়, এখানকার পানের মান ভাল হওয়ায় এলাকার উৎপাদিত পান বেশিরভাগ ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। কাটাপ্রতি ১৮০ পোন পান উৎপাদন হবে যা প্রায় ১৮ হাজার টাকা বিক্রি হয়। অন্যান্য যে কোন বছরের চেয়ে এ বছর পানের পাইকারী দাম বেশি হওয়ায় চাষীরা অধিক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।

SHARE