সুন্দরবনে জেলেদের জিম্মি করে বনরক্ষীদের ঘুষ বাণিজ্য!

এমাদুল হক (শামীম), শরণখোলা (বাগেরহাট)॥ সুন্দরবনের কয়েকজন বনরক্ষীর বিরুদ্ধে জেলেদের আটক করে অর্থ হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ মার্চ গভীর রাতে পূর্ব বনের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফিরে আসা জেলে ও মহাজন সূত্র জানায়, গত ১ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন হতে বন সংলগ্ন উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক জেলে কাঁকড়া আহরণের জন্য অনুমতি (পাস) নিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া ও কালামিয়ার খাল এলাকায় যায়। সেখান থেকে গত ১০ মার্চ রাত ১২ টার দিকে শরণখোলা স্টেশন এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে প্রায় ৫ মন কাঁকড়া নিয়ে জেলে আলী শিকদার (৩৫), মাহাবুব (২৫), তুহিন (২৭) তাদের মহাজনের আড়তে ফিরছিল। এ সময় শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. ফারুক আহম্মেদের নেতৃত্বে এফজি হারুন ও বোটম্যান আব্দুল আজিজসহ একদল বনরক্ষী ওই জেলেদের গতিরোধ করে।
ওই সময় বনরক্ষীরা জেলেদের ট্রলারে তল্লাশি চালায়। কিছু না পেয়ে ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহন অবৈধ উল্লেখ করে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন জেলেদের কাছে। এক পর্যায় জেলেরা তাদের মহাজনকে জানালে মহাজন জাকির হোসেন ও ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, ফারুক আহম্মেদসহ বনরক্ষীদের নানা অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষের চুক্তিতে কাঁকড়াসহ আটক জেলেদরে ছেড়ে দেয় বনরক্ষীরা।
পরে ১১ মার্চ সকালে ধানসাগর স্টেশনের এসও হুমায়ুন কবির, শরণখোলা ষ্টেশনের (এসও) ফারুক আহম্মেদের বরাদ দিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেনকে ০১৭৭৯২৮৭২৭২ নং একটি এজেন্ট বিকাশ নম্বর দেন। উক্ত নম্বরে ওই মহাজন শরনখোলা স্টেশন কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদের নামে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করেন। অপরদিকে, উক্ত নম্বরটি বন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের এক বিকাশ ব্যবসায়ীর। পাশাপাশি এসও ফারুক হোসেনই ওই ব্যবসায়ীর নিকট থেকে উক্ত বিকাশ নম্বরটি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মৎস্য ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বনরক্ষীরা বনদস্যূদের মত আচরণ করায় জেলেরাসহ তিনিও রীতিমত হতবাক হয়েছেন।
তবে এ বিষয় ধানসাগর স্টেশনের কর্মকর্তা এসও হুমায়ুন কবির কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, কাঁকড়ার ট্রলার আটকের বিষয়টি সঠিক, তবে কে বা কারা তার নামে বিকাশে মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন তা তিনি জানেন না। অপরদিকে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মামুদুল হাসান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

SHARE